রফতানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে এমটিবি
রফতানিমুখী শিল্পে ৭% সুদে অর্থায়ন সুবিধা দেবে মধুমতি ব্যাংক
সিইপিএ সই ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ
পিকেএসএফের সহায়তায় চার জেলায় ৩০ হাজার উদ্যোক্তা তৈরি
পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাড়ে ৯ কোটি টাকার বীমা প্রদান
১গুরুদাসপুরে ধারের ১০ হাজার টাকা চাইতে গিয়ে হামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
চট্টগ্রামে কেজিতে মাল্টার দাম বাড়ল ২০০ টাকা
চট্টগ্রামের বাজারে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে আমদানি করা বিদেশি ফলের দাম। বিশেষ করে ডেঙ্গুর এই ভরা মৌসুমে চাহিদা বাড়াকে কাজে লাগিয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাল্টা। এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামে মাল্টার দাম কেজিতে প্রায় দুই শত টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা আমদানি ও সরবরাহ সংকটের দোহাই দিলেও কাস্টমসের তথ্যে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ফলের দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।বাজার ঘুরে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে এখন এক কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং এক মাস আগে তা বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে।ফল ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কনটেইনার মাল্টার চাহিদা রয়েছে। তবে গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে বাজারে দিনে মাত্র ৬ থেকে ৭ কনটেইনার মাল্টা পৌঁছাচ্ছে। সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসা এবং একই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।চট্টগ্রামের ফল আমদানিকারক মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, “জাহাজ সংকট এবং ফলের মৌসুম শেষ হয়ে আসার কারণে মাল্টা ও কমলার সরবরাহ কমেছে। তাছাড়া এক মাস আগে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে আমদানিকারকদের লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম খানিকটা চড়া।”তবে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নতুন চালান এলে দ্রুতই মাল্টার দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ব্যবসায়ীরা বিদেশি ফলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য উচ্চ শুল্ক-কর, বাড়তি জ্বালানি খরচ এবং বন্দরের অতিরিক্ত চার্জকেও অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।তবে আন্তর্জাতিক বাজার বা শুল্কায়নের ক্ষেত্রে দাম বাড়ার এমন কোনো চিত্র মিলেনি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ফলের আমদানি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। বর্তমানে মাল্টার আমদানি মূল্য কেজিতে মাত্র ১ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ টাকায়। অন্যদিকে আঙ্গুরের আমদানি মূল্য কেজিতে ২ টাকা কমে ১০৫ টাকা হয়েছে এবং আপেল ও কমলার আমদানি মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বিদেশি ফল আমদানিতে সব মিলিয়ে প্রায় ১২২ শতাংশ শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়।কাস্টমসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৫ সালে আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফল আমদানি হয়েছিল ৫৩ কোটি ৮৩ লাখ কেজি। অন্যদিকে চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত নয় মাসে ফল আমদানি হয়েছে ৪১ কোটি ২০ লাখ কেজি।সাধারণ ক্রেতা ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতারা একে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলেই মনে করছেন। ক্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “ডেঙ্গুর কারণে বাজারে মাল্টার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।”এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানান, ফলের বাজারে অস্থিরতার বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ফলমন্ডিসহ বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। গত বুধবার নিয়ম না মানায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অসাধু কারসাজি বন্ধে বাজার মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
জ্বালানির দাম কমাতে মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ছে জি৭
পদ্মার গ্রাসে সুরেশ্বর মাছ ঘাট, ঝুঁকিতে আড়ত-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
১৫৮৫ টাকার গ্যাস কেন লাফিয়ে ২৫০০+, কৃত্রিম সংকট কী?
১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু রাজধানীর অনেক এলাকায় একই সিলিন্ডারের জন্য ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও আবার এই বাড়তি দামেও গ্যাস মিলছে না। অর্থাৎ কাগজে-কলমে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বাস্তব বাজারে তৈরি হয়েছে সংকট।আর সেই সংকটকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও চলছে অতিরিক্ত দাম আদায়।প্রশ্ন হচ্ছে, দেশে যদি এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি না থাকে, তাহলে বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কেন? এটি কি সত্যিই সরবরাহ সংকট, নাকি সরবরাহ ব্যবস্থার কোথাও তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের গলদ?এই প্রশ্নের উত্তর শুধু খুচরা বিক্রেতার দোকানে খুঁজলে পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমদানি, পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বাজার, মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি, সরকারি তদারকি, বাজারের তথ্যের অস্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির দুর্বলতা। এর সঙ্গে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব যুক্ত হলে সংকট আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।কৃত্রিম সংকট কীকোনো পণ্যের বাস্তব সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কমে গেলে সেটি স্বাভাবিক সরবরাহ সংকট। কিন্তু পর্যাপ্ত পণ্য থাকা সত্ত্বেও বাজারের কোনো পর্যায়ে সরবরাহ আটকে রাখা, মজুত করা, বাজারে পণ্য ছাড়ার গতি কমিয়ে দেওয়া, কিংবা সংকটের গুজব বা প্রত্যাশাকে কাজে লাগিয়ে দাম বাড়ানো হলে তাকে কৃত্রিম সংকট বলা যায়।এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কৃত্রিম সংকট মানেই সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য আটকে রেখেছেন, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকৃত খরচ, পরিবহন ব্যয়, কমিশন, পরিবেশকের মূল্য এবং বাজার পরিস্থিতির পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু যখন সরকারি দামের সঙ্গে বাজারদামের বড় ব্যবধান তৈরি হয় এবং একই সঙ্গে ভোক্তা পণ্য খুঁজে পান না, তখন বাজার ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।এলপিজির বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি দাম আর দোকানের দাম এত আলাদা কেন?বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে। সেপ্টেম্বরের জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।কিন্তু বাস্তব বাজারে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় এই দাম কার্যকর হচ্ছে না। আগে প্রায় ২ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কোথাও কোথাও দাম বেড়ে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছেছে।এখানে বাজার ব্যবস্থার একটি মৌলিক সমস্যা সামনে আসে—সরকার মূল্য নির্ধারণ করছে, কিন্তু সেই মূল্য বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা কতটা?মূল্য নির্ধারণ এবং মূল্য বাস্তবায়ন দুটি আলাদা বিষয়। কাগজে একটি দাম নির্ধারণ করে দিলেই বাজারে সেই দাম প্রতিষ্ঠিত হয় না। প্রয়োজন হয় নিয়মিত বাজার নজরদারি, সরবরাহ চেইনের তথ্য, মজুতের হিসাব, পরিবেশক পর্যায়ের মূল্য এবং খুচরা বিক্রেতার বিক্রয়মূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য। এই জায়গাতেই দুর্বলতা তৈরি হলে সরকারি মূল্য অনেক সময় ‘কাগুজে মূল্য’ হয়ে যায়।ব্যবসায়ীরা কেন দায় ঠেলছেনখুচরা বিক্রেতাদের বক্তব্য, তারা বেশি দামে এলপিজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাদের লোকসান হবে। অন্যদিকে, ভোক্তার অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে খুচরা পর্যায়েই অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। এই দুই বক্তব্যের মধ্যবর্তী জায়গাটিই আসলে তদন্তের বিষয়।একটি সিলিন্ডার আমদানির পর সেটি কী দামে কার কাছে বিক্রি হলো, পরিবেশক কত নিলেন, ডিলার কত নিলেন, খুচরা বিক্রেতা কত দামে কিনলেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে কত দামে বিক্রি হলো—এই পুরো চেইনের তথ্য প্রকাশ্য না হলে প্রকৃত সমস্যাটি কোথায় তা বোঝা কঠিন। বাজারে দাম বাড়ছে—কিন্তু কোন স্তরে কত টাকা বাড়ছে, সেটি যদি রাষ্ট্রের কাছে স্পষ্ট না থাকে, তাহলে তদারকিও কার্যকর হওয়া কঠিন।দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এর অর্থ হলো আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার বিনিময় হার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন এবং বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দেশের এলপিজির দামের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তবে আমদানিনির্ভরতা একাই বর্তমান বাজারদামের ব্যাখ্যা নয়।কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বা আমদানি ব্যয় বাড়লে তার প্রতিফলন মূল্য নির্ধারণে আসতে পারে। কিন্তু সরকার নির্ধারিত মূল্য এবং খুচরা বাজারের দামের মধ্যে যখন কয়েক শ টাকা ব্যবধান তৈরি হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে—এই অতিরিক্ত অর্থের উৎস কোথায়? অর্থাৎ সমস্যা শুধু ‘এলপিজি কত দামে আমদানি হচ্ছে’ তা নয়; বরং আমদানির পর বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে কী হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।সিন্ডিকেট কোথায়?এলপিজি না পাওয়া বা বেশি দামে পাওয়ার অভিযোগ উঠলেই ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটি সামনে আসে। কিন্তু কোনো ব্যবসায়ী গোষ্ঠী পণ্য আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে—এমন অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজন বাজারের তথ্য। কোথায় কত সিলিন্ডার মজুত আছে? কত সিলিন্ডার আমদানি হয়েছে? কতটা বাজারে ছাড়া হয়েছে? কোন পরিবেশক কত পণ্য পেয়েছেন? কোন এলাকায় সরবরাহ কমেছে? কেন একজন বিক্রেতা নির্ধারিত দামে পণ্য দিতে পারছেন না?এই তথ্যগুলো নিয়মিত প্রকাশিত হলে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। কারণ অস্বচ্ছ বাজারে গুজবের মূল্য বাড়ে। আর স্বচ্ছ বাজারে তথ্যের মূল্য বাড়ে। প্রশ্ন আসছে, সরকারের তদারকি কোথায়?যে প্রশ্নের মধ্যে রাষ্ট্রের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যদি একদিকে মূল্য নির্ধারণ করে, অন্যদিকে সেই মূল্য বাস্তবায়নের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকে, তাহলে দুটি বাজার তৈরি হয়—একটি সরকারি কাগজে, অন্যটি বাস্তবে।জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি নেই। বেশি দামে বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। এখন মূল প্রশ্ন হলো—এই ব্যবস্থা কত দ্রুত এবং কতটা দৃশ্যমানভাবে নেওয়া হয়। শুধু অভিযান বা জরিমানা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে না। প্রয়োজন ডেটাভিত্তিক বাজার মনিটরিং। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ চেইনের ডিজিটাল তথ্য রাষ্ট্রের কাছে থাকা দরকার।বাংলাদেশের বহু পণ্যের বাজারে ব্যবসা ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা আছে। কোনো ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকলে বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক পদক্ষেপ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে—এমন অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে ওঠে।তবে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যবসায়ী বা গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলপিজি সংকট তৈরির জন্য দায়ী করা ঠিক হবে না। বরং কাঠামোগত প্রশ্নটি হলো—বাজার নিয়ন্ত্রণ কি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করবে, নাকি একই নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে?কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার অন্যতম শর্তই হলো এই নিরপেক্ষতা।এলপিজির এই পরিস্থিতি একটি বড় বাজার-বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে। দেশে অনেক সময় পণ্যের সংকটের চেয়ে বাজার ব্যবস্থাপনার সংকট বড় হয়ে ওঠে। পণ্য আছে, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার দাম নির্ধারণ করেছে, কিন্তু সেই দামে বিক্রি হচ্ছে না। ব্যবসায়ী বলছেন, বেশি দামে কিনেছেন। ভোক্তা বলছেন, তাকে জিম্মি করা হচ্ছে। সরকার বলছে, সরবরাহে ঘাটতি নেই।এই চারটি বক্তব্যের মধ্যে সত্যের কোন অংশ কোথায়—সেটি বের করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কারণ বাজারে নৈরাজ্য তখনই তৈরি হয়, যখন নিয়ম আছে কিন্তু প্রয়োগ দুর্বল; তথ্য আছে কিন্তু তা প্রকাশ্য নয়; সরবরাহ আছে কিন্তু তার প্রবাহ নজরদারির বাইরে; আর ভোক্তার হাতে বিকল্প নেই।এলপিজি এখন বাংলাদেশের লাখো পরিবারের রান্নার অপরিহার্য জ্বালানি। ফলে এর বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি পণ্যের দাম বাড়ার ঘটনা নয়। এটি পরিবারের ব্যয় বাড়ায়, ছোট ব্যবসার খরচ বাড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ তৈরি করে।তাই সমাধান শুধু ‘দাম বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—এই ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। প্রয়োজন স্বচ্ছ সরবরাহ চেইন, নিয়মিত মজুত ও সরবরাহের তথ্য প্রকাশ, বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ, কার্যকর বাজার তদারকি, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি।কারণ বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় শুধু পণ্য লুকিয়ে রাখলে নয়; অনেক সময় রাষ্ট্রের তথ্যের ঘাটতি, তদারকির দুর্বলতা এবং জবাবদিহির শূন্যতাও সেই সংকটের জায়গা তৈরি করে দেয়।১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা—কিন্তু ভোক্তাকে যদি ২ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়, তাহলে প্রশ্নটা শুধু ‘এলপিজির দাম কত’ নয়। প্রশ্নটা আরও বড়— সরকার যে দাম নির্ধারণ করে, বাজারে সেই দাম কার্যকর করার ক্ষমতা রাষ্ট্রের কতটা আছে? আর সেই প্রশ্নের উত্তরই বলে দেবে—এটি সত্যিকারের সরবরাহ সংকট, নাকি দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার সুযোগে তৈরি হওয়া কৃত্রিম সংকট।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার করার দাবি
গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারাদেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
রূপালী ব্যাংকে চেকবিহীন নগদ টাকা উত্তোলন সেবা
চুয়াডাঙ্গায় ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে ফল ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
ডিজেলের জরুরি মজুত বাজারে ছাড়তে ইউরোপকে হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রবিশ্ববাজারে তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে জার্মানি ও ফ্রান্সকে তাদের জরুরি ডিজেল মজুত উন্মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই নির্দেশ অমান্য করলে ইউরোপে মার্কিন ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ারও গোপন হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ভৈরবে মেঘনার তীরে অবৈধ মাটি কাটার দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা
তালতলীতে নারীকে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে টাকা লুটের অভিযোগ
জুলাই-আগস্টের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল
বাজারে শীতের আগাম সবজিতে উত্তাপ, কাঁচা মরিচে স্বস্তি
রাজধানীর বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে আগাম শীতকালীন সবজি। পেপে বাদে বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ ছুঁই ছুঁই। এদিকে শীত আসার আগে শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। তবে ভোক্তার জন্য স্বস্তির খবর হলো, বাজারে কাচামরিচের দাম কমেছে।
বাজারে শীতের আগাম সবজিতে উত্তাপ, কাঁচা মরিচে স্বস্তি
রাজধানীর বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে আগাম শীতকালীন সবজি। পেপে বাদে বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ ছুঁই ছুঁই। এদিকে শীত আসার আগে শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। তবে ভোক্তার জন্য স্বস্তির খবর হলো, বাজারে কাচামরিচের দাম কমেছে।
Discussion
Please Sign In to join the discussion.