Technology
আকাশ ছুঁতে চান ফাহাদ্দিস
উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট! পায়ের পাতা দুটিও বাঁকানো। সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না
Technology
উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট! পায়ের পাতা দুটিও বাঁকানো। সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না
বগুড়ার শাজাহানপুরে ইক্বারা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিখন উৎসব ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মাঝিড়া স্কুল মাঠে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অংশগ্রহণে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআনের সবক প্রদান ও শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন। উপস্তিত ছিলেন ইউএনও তাইফুর রহমান।
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।মানুষ ছাড়া খ্যাপা রে তুই মূল হারাবি ॥’বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সাধন-সাহিত্যের ইতিহাসে যে ক’জন সাধক কবি মানবতার সর্বজনীন দর্শন নির্মাণ করেছেন, লালন শাহ (১৭৭৪-১৮৯০) তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায়ের গণ্ডিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি; তাঁর সাধনার কেন্দ্র ছিল মানুষ এবং মানুষের অন্তর্নিহিত সত্য। সমাজ যখন মানুষকে জাত, বর্ণ, ধর্ম ও বাহ্যিক নানা পরিচয়ের সীমারেখায় বিভক্ত করেছিল, লালন তখন প্রশ্ন তুলেছেন-মানুষের আসল পরিচয় কোথায়? লালন তার গানের মাধ্যমে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় ও সামাজিক পরিচয়ের কৃত্রিম বিভাজনের বিপরীতে মানুষের মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। তাঁর সাধনার কেন্দ্র ছিল মানুষের অন্তর্লীন সত্য; মানুষের মধ্য দিয়েই তিনি পরম সত্তার সন্ধান করেছেন। নিজের দেহ ও অন্তরের রহস্যকে উপলব্ধি করে মানুষের মধ্যে নিহিত অসীম সত্তাকে চিনে নেওয়াই তাঁর সাধনার মূল লক্ষ্য। তাই তাঁর মানবধর্মের মূলকথা মানুষের মধ্যে পরমের সন্ধান এবং মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আত্মিক সত্যের উপলব্ধি। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।/মানুষ ছাড়া খ্যাপা রে তুই মূল হারাবি’ —এই বাণীতে তাঁর সমগ্র মানবদর্শনের সারকথা যেন ধ্বনিত হয়েছে। মানুষকে অবহেলা, অপমান করলে ঈশ্বরের আরাধনা মহান সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে সত্য খোঁজা ছাড়া আর কিছুই নয়। লালনের মানবধর্ম নিছক মানবতাবাদ নয়; এটি মানুষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক গভীর জীবনদর্শন, যা আজও বিভক্ত সমাজের সামনে মানবমুক্তির এক শক্তিশালী পথনির্দেশ হিসেবে উপস্থিত।লালনের কাছে মানুষ কেবল সামাজিক জীব নয়; মানুষই সত্যের আধার। তাঁর বিখ্যাত প্রশ্ন— ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’, অথবা ‘লালন ফকির কোন জাতের ছেলে?’ জাতপরিচয়ের প্রচলিত ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। জন্মের পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান মানুষের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না— এই উপলব্ধিই তাঁর মানবধর্মের ভিত্তি। মানুষকে মানুষ হিসেবে গ্রহণ করাই তাঁর সাধনার প্রথম শর্ত।লালনের দর্শনে মানবপ্রেম কোনো নিছক সামাজিক নীতিবাক্য নয়; এটি আত্মসন্ধানের পথ। তাই যে মানুষের ভেতর পরমাত্মা বিরাজ করে সেই মানুষকে অবহেলা, অসম্মান করে কোনো সাধনায়-ই সিদ্ধি লাভ হবে না। লালন বলেছেন— ‘ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার, সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার’— লালন সাঁইয়ের এই আধ্যাত্মিক বাণীটি বাউল দর্শনের অন্যতম মূল স্তম্ভ ‘গুরুবাদ’ এবং ‘নরতত্ত্ব’ (Humanism) এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। লালনের কাছে ঈশ্বর সাধনার সর্বোচ্চ মাধ্যম হলো মানুষ। বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান বা শুধু শাস্ত্রজ্ঞানের মাধ্যমে স্রষ্টাকে পাওয়া যায় না। যিনি প্রকৃত গুরুর নির্দেশিত পথে চলে নিজের মনকে শুদ্ধ করতে পারেন এবং মানুষের সেবা করতে পারেন, তিনিই জীবনের পরম সত্য বা আধ্যাত্মিক মুক্তি লাভ করেন।লালনের দর্শনে দেহ একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাঁর দেহতত্ত্বে মানবদেহকে নিছক শরীর হিসেবে দেখা হয়নি; বরং দেহের মধ্যেই নিহিত রয়েছে সাধনার রহস্য ও পরম সত্যের সন্ধান। মানুষের জন্ম, দেহের গঠন, প্রাণের প্রবাহ এবং দেহের অন্তর্লীন রহস্য নিয়ে তাঁর বহু গান রচিত হয়েছে। দেহ তাঁর কাছে আত্মপরিচয় ও সৃষ্টির রহস্য অন্বেষণের একটি ক্ষেত্র।তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের মাঝেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল রহস্য লুকিয়ে আছে (যা বাউলতত্ত্বে ‘যা নেই ভাণ্ডে, তা নেই ব্রহ্মাণ্ডে’ বলে পরিচিত)। গুরুর প্রতি নিষ্ঠা রাখার অর্থ হলো মানুষের প্রতি নিষ্ঠা ও ভালোবাসা রাখা। মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যমেই পরমাত্মাকে পাওয়া সম্ভব— এটাই এই দর্শনের মূল কথা। ‘নদী কিংবা বিল বাওড় খাল, সর্বস্থলে একই এক জল।/একা মেরে সাঁই ফেরে সর্ব ঠাঁই, মানুষে মিশিয়ে হয় বেদান্তর।’ গানে নদীর জলের সাথে বিল বা খালের জলের যে তুলনা লালন এনেছেন, তা মূলত অদ্বৈতবাদের প্রতীক। নদী, বিল বা খালের জল দেখতে আলাদা মনে হলেও মূলগতভাবে তা একই জল। একইভাবে, পৃথিবীতে ধর্মে বর্ণে, গোত্রে বা আচারে নানা রূপভেদ থাকতে পারে, কিন্তু সকল সৃষ্টির পেছনে পরম সত্য বা স্রষ্টা একজনই। লালন বলেছেন— ‘নিরাকারে জ্যোতির্ময় যে/আকার সাকার হইল সে।/যেজন দিব্যজ্ঞানী হয়/সেহি জানতে পায়/কলি যুগে হলো মানুষ অবতার।’— সেই নিরাকার পরম জ্যোতিই সৃষ্টির লীলা আস্বাদন করতে মানুষরূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। অর্থাৎ, অদৃশ্য ঈশ্বর বা সাঁই মানুষের মাঝেই আকার বা ‘সাকার’ রূপ নিয়ে দৃশ্যমান হন। মানব দেহকে তাই ঈশ্বরের আসল বসতি মনে করেন। তাই মানুষকে বাদ দিয়ে বা মানুষকে কষ্ট দিয়ে দূর আকাশের ঈশ্বরের আরাধনা করা নিরর্থক। মানুষের মাঝেই পরমাত্মা অবতার রূপে বিরাজ করছেন। লালন বলছেন, যিনি ‘দিব্যজ্ঞানী’ গুরু অর্থাৎ পরম প্রভুর দয়ায় যাঁর ভেতরের আধ্যাত্মিক চোখ খুলে গেছে, কেবল তিনিই পরম সত্যটি উপলব্ধি করতে পারেন, তিনিই কেবল তা জানতে পারেন। তাই কুতর্কের দোকান না খুলে বুঝতে হবে মানব দেহই অবতার অর্থাৎ স্রষ্টার প্রতিনিধি। যিনি নিরাকার জ্যোতি, তিনিই সাকার মানুষ। তাই ঈশ্বরকে পেতে হলে মানুষের প্রতি ভক্তি রাখতে হবে এবং গুরুর শরণাপন্ন হয়ে সেই দিব্যজ্ঞান লাভ করতে হবে।‘আছে আদি মক্কা এই মানব দেহে / দেখ না রে মন ভেয়ে।/ দেশ দেশান্তর দৌড়ে এবার/মরছো কেন হাঁপিয়ে।’ — লালন তাঁর নিজের মনকে সম্বোধন করে বলছেন যে, পরম পবিত্র স্থান ‘মক্কা’ মূলত মানুষের এই দেহের ভেতরেই বিদ্যমান। মানুষ সত্য বা সৃষ্টিকর্তার সন্ধানে দেশ থেকে দেশান্তরে (যেমন মক্কা-মদিনা বা তীর্থস্থানে) ছুটে বেড়ায় এবং ক্লান্ত হয়ে হাঁপিয়ে মরে। কিন্তু আসল সত্য তো নিজের ভেতরেই লুকিয়ে আছে, যা মানুষ চোখ মেলে (অনুভব করে) দেখে না। লালনের ভাবনায়— ঈশ্বর কোনো দূর আকাশে বা পাথরের দালানে বসবাস করেন না। মানুষের পবিত্র দেহই হচ্ছে আসল উপাসনালয় বা মক্কা। নিজের কুপ্রবৃত্তি দূর করে গুরুর সাহায্যে অন্তরে ডুব দিলে পরমাত্মার দেখা পাওয়া সম্ভব। ‘আপনারে আপনি চেনা যদি যায়/তবে তারে চিনতে পারি সেই পরিচয়।/উপরওয়ালা সদয় বাড়ি,/আত্মারূপে অবতারি,/মনের ঘোরে চিনতে নারি/কিসে কি হয়।’— এখানে লালন বলেছেন— মানুষ যদি নিজের প্রকৃত সত্তাকে চিনতে পারে, তবে পরম সত্তা বা স্রষ্টাকেও উপলব্ধি করা সম্ভব। কিন্তু অজ্ঞতা, মনের বিভ্রান্তি ও সংসারের মায়ার কারণে মানুষ নিজের অন্তর্নিহিত পরিচয় সম্পর্কে সচেতন হতে পারে না। বাহ্যিক দেহ ও পরিচয়ের ভিন্নতার আড়ালে মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার গভীর ঐক্য রয়েছে। তাই লালনের মূল বক্তব্য হলো— নিজেকে সত্যভাবে চেনাই আত্মউপলব্ধির প্রধান পথ, আর সেই আত্মউপলব্ধির মধ্য দিয়েই জীবনের গভীর সত্য ও পরম সত্তাকে চেনা সম্ভব। একই সুরে লালন আরও বলেন— ‘ও যার আপন খবর আপনার হয় না/একবার আপনারে চিনতে পারলে রে/যাবে অচেনারে চেনা, যাবে অচেনারে চেনা।— আত্মরূপে কর্তা হরি, মনে নিষ্ঠা হলে মিলবে তার ঠিকানা/ও তুই বেদ-বেদান্ত পড়বি যত রে ও তোর বাড়বে তত লখ্না।’ —মানুষ সাধারণত বাইরের জগৎ, শাস্ত্র ও নানা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে পরম সত্যকে খুঁজে বেড়ায়; অথচ নিজের অন্তরের সত্যকে চিনতে না পারলে সেই জ্ঞান পূর্ণতা লাভ করে না। মানুষ যখন নিজের প্রকৃত সত্তাকে চিনতে পারে, তখন তার কাছে এত দিন অচেনা ও দুর্বোধ্য সত্যও পরিচিত হয়ে ওঠে।লালনের মতে, আত্মরূপেই কর্তার (স্রষ্টার) প্রকাশ। মনের মধ্যে সত্যের প্রতি নিষ্ঠা ও একাগ্রতা জন্মালে মানুষ নিজের অন্তরেই সেই পরম সত্তার সন্ধান পেতে পারে। তাই কেবল বেদ-বেদান্ত বা ধর্মগ্রন্থ পাঠ করলেই আত্মজ্ঞান অর্জিত হয় না; বরং অতিরিক্ত গ্রন্থগত জ্ঞান অনেক সময় মানুষের মধ্যে জ্ঞানের অহংকার ও বিভ্রান্তিই বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রকৃত জ্ঞান হলো নিজের অন্তরকে জানা, নিজের সত্তাকে উপলব্ধি করা এবং সেই আত্মসত্যের মধ্য দিয়ে পরম সত্যকে চিনে নেওয়া। লালন বলেছেন— ‘আপনারে আপনি চিনিনে।/দিন দোনের পর যার নাম অধরতারে চিনবো কেমনে।/আপনারে চিনতাম যদি মিলতো অটলচরণনিধি।/মানুষের করণ হতো সিদ্ধি শুনি আগম পুরাণে।’ —পরম সত্যকে জানার আগে মানুষকে নিজের প্রকৃত সত্তাকে চিনতে হবে। বাহ্যিক পরিচয়, আচার বা শুধু শাস্ত্রজ্ঞান নয়— নিজের অন্তর্জগতের অনুসন্ধান ও আত্মতত্ত্বের উপলব্ধির মধ্য দিয়েই সত্যজ্ঞান লাভ করা সম্ভব। লালনের এই দর্শনে আত্মজ্ঞানই পরমতত্ত্ব উপলব্ধির প্রধান দ্বার। ‘দিব্যজ্ঞানী যেজন হলো নিজতত্ত্বে নিরঞ্জন পেলো।/সিরাজ সাঁই কয় লালন রইলো জন্ম অন্ধ মন গুনে।’ অর্থাৎ যে ব্যক্তি দিব্যজ্ঞান অর্জন করেন, তিনি নিজের স্বরূপের নির্মল সত্য উপলব্ধি করতে পারেন। কিন্তু আত্মজ্ঞান থেকে বঞ্চিত মানুষ ‘জন্ম অন্ধ মন গুনে’— অর্থাৎ চোখে দেখতে পেলেও অন্তর্দৃষ্টির অভাবে সত্যকে চিনতে পারে না।লালনের দর্শনে দেহ একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাঁর দেহতত্ত্বে মানবদেহকে নিছক শরীর হিসেবে দেখা হয়নি; বরং দেহের মধ্যেই নিহিত রয়েছে সাধনার রহস্য ও পরম সত্যের সন্ধান। মানুষের জন্ম, দেহের গঠন, প্রাণের প্রবাহ এবং দেহের অন্তর্লীন রহস্য নিয়ে তাঁর বহু গান রচিত হয়েছে। তবে তাঁর দেহতত্ত্বকে কেবল শারীরিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ করলে লালনের সাধনাদর্শনের গভীরতা অনুধাবন করা যায় না। দেহ তাঁর কাছে আত্মপরিচয় ও সৃষ্টির রহস্য অন্বেষণের একটি ক্ষেত্র।‘এই মানুষে সেই মানুষ আছে,/কতো মুনি-ঋষি-যোগী-তপস্বী তারে খুঁজে বেড়াচ্ছে।/জলে যেমন চাঁদ দেখা যায়, ধরতে গেলে হাতে কে পায়?/আলেক মানুষ অমনি সদাই,/আছে আলেকে বসে।’ —লালনের দর্শনের এই মর্মবোধে দেহ ও আত্মার সম্পর্ক নতুন তাৎপর্য লাভ করে। যে সত্যকে মানুষ দূর আকাশে, তীর্থে বা বহির্জগতে খুঁজে বেড়ায়, তার সন্ধান নিজের অস্তিত্বের মধ্যেই সম্ভব। এই কারণে তাঁর সাধনা আত্মঅনুসন্ধানী এবং একই সঙ্গে গভীরভাবে মানবকেন্দ্রিক।লালনের মানবধর্ম নতুন কোনো বিষয় নয় বরং খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০ অব্দে সক্রেটিস এর ‘নিজেকে জানো’ বাণীটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। প্লেটোর দর্শনে ‘নিজেকে জানা’ মানে কেবল শরীরকে জানা নয়, বরং নিজের আত্মাকে জানা। শরীর নশ্বর, কিন্তু আত্মা অমর এবং পরম সত্যের অংশ। চতুর্দশ শতকের বাঙালি কবি বড়ু চণ্ডীদাস বলেছেন— ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। পঞ্চদশ শতাব্দীর বিখ্যাত ভারতীয় মরমি কবি ও সাধক সন্ত কবীর (১৩৯৮-১৫১৮) বলেছেন— ‘কস্তুরী কুণ্ডল বসৈ, মৃগ ঢূঁঢৈ বন মাহি।/ঐসে ঘটি-ঘটি রাম হ্যায়, দুনিয়া দেখৈ নাহি॥’ —হরিণ যেমন নিজের নাভিতে থাকা কস্তুরীর সুগন্ধ চিনতে না পেরে তা সারা বনে খুঁজে বেড়ায়, ঠিক তেমনি সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি মানুষের ভেতরেই বাস করেন। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে মানুষ তা দেখতে পায় না এবং বাইরে খুঁজে ফেরে। কবীর আরও বলেছেন— ‘জো তিল মাহী তেল হৈ, জু্যঁ চকমক মেঁ আগি।/তেরা সাঁঈ তুঝ মেঁ হৈ, জাগি সকে তো জাগি॥’ অর্থাৎ তিলের ভেতরে যেমন তেল লুকিয়ে থাকে এবং চকমকি পাথরের ভেতরে যেমন আগুন লুকিয়ে থাকে, ঠিক তেমনি তোমার প্রভু তোমার নিজের ভেতরেই আছেন। যদি তোমার সেই জ্ঞান বা চেতনা থাকে, তবে তা জাগ্রত করে নিজের ভেতরেই তাঁকে চিনে নাও।তবে লালনের মানবধর্ম সক্রেটিস, প্লেটো, বড়ু চণ্ডীদাস কিংবা সন্ত কবীর থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো মতবাদ নয় বরং লালনের মানবধর্মের সঙ্গে তাঁদের আত্মসন্ধান ও অন্তর্লীন সত্যের অনুসন্ধানের একটি গভীর ভাবগত সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। এ মর্মার্থ হলো আত্মসন্ধান, দেহতত্ত্ব, সাধনা ও অন্তরের পরিশুদ্ধি। তাই লালনের মানুষভজনা একই সঙ্গে নৈতিক, দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক সাধনা।লালনের মানবধর্মের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো— তিনি মানুষকে কোনো পরিচয়ের অধীন করেননি; বরং পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানুষের মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর কাছে মানুষই ছিল সাধনার ক্ষেত্র, মানুষই ছিল সত্যের সন্ধানের পথ এবং মানুষের মধ্যেই ছিল সেই ‘অচিন মানুষ’-এর অবস্থান। দেহতত্ত্বের গভীর অনুসন্ধান তাঁকে শিখিয়েছে নিজের অস্তিত্বের ভেতরেই পরম সত্যকে খুঁজতে; আর মানবপ্রেম তাঁকে শিখিয়েছে অন্য মানুষের মধ্যে সেই একই সত্যকে সম্মান করতে। ফলে লালনের ‘মানুষ ভজনা’ কোনো নিছক কাব্যিক অভিব্যক্তি নয়, এটি আত্মপরিচয়, মানবমর্যাদা ও মুক্তির এক সমন্বিত দর্শন। আজকের পৃথিবীতে যখন ধর্ম, জাতি, বর্ণ ও পরিচয়ের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হয়, তখন লালনের বাণী আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তাঁর দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়— মানুষকে ছোট করে কোনো মহত্তর সত্যকে পাওয়া যায় না, মানুষকে ঘৃণা করে কোনো সাধনা পূর্ণ হয় না। তাই লালনের প্রকৃত শিক্ষা বাহ্যিক পরিচয়ের অহংকার পেরিয়ে মানুষের মধ্যে মানুষকে দেখতে শেখা, তবে সেই পথেই ‘সোনার মানুষ’ হওয়া সম্ভব।
ক্রীড়াজগতে অসামান্য অবদান এবং মানবসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের সম্মানজনক ‘প্রিন্সেস অফ আস্তুরিয়াস’ অর্জন করেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। স্পেনের ওভিয়েদোর ক্যাম্পোআমোর থিয়েটারে এক জমকালো আয়োজনে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন স্পেনের...
সাদপন্থীরা আর কখনও টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান ব্যবহার করতে পারবে না- সরকারের এই পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে ওলামা-মাশায়েখরা। আগামী
পাইপলাইনের জরুরি লিকেজ মেরামত কাজের জন্য শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় টানা চার ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ১৪১টি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এর মধ্যে ৬৬টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৭৫টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। সব মিলিয়ে এসব ফ্লাইটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ...
বগুড়ার শেরপুরে প্রাইভেটকারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝের আইল্যান্ডে ধাক্কা লেগে গোলাম রব্বানী নামের এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত আটটার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ছোনকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়ির চালককে পাওয়া যায়নি...
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেবরনে (আল-খলিল) ইসরাইলি সেনাদের ওপর গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রশংসা জানিয়েছে গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট। শুক্রবারের ওই প্রতিশোধমূলক ঘটনায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হন। এটিকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তেল আবিব শ
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৮০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও তিন কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকা। গত শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযান শেষে জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস ও ইলিশ মাছ অসহায় ও দুস্থ শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
তাইওয়ান ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌ তৎপরতা বাড়িয়েছে চীন। এ কাজে দেশটি সামুদ্রিক মিলিশিয়ার মাছ ধরার নৌযানের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের
ছাত্রদল নেতা নাসির উদ্দিন শাওন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা চারজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীকে অনশন থেকে পেয়েছি। পুলিশ এসে তাদের তুলে নিয়ে গেছে।’নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক কামাল উদ্দিন বলেন, ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। চারজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পদধারী নেতা নিশ্চিত হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘ যুদ্ধ ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে শান্তির পথ খুঁজতে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
শামসুর রাহমানের সাহিত্যে স্থানিক ও ভৌগোলিক যোগসূত্র নির্মাণ এবং বিশ্লেষণে হোমি কে. ভাবার ‘দি লোকেশন অব কালচার’-এর তাত্ত্বিক আলোয় উঠে আসে যে, ঢাকা শহরকে একটি ভৌগোলিক পটভূমি হিসাবে গণ্য করা হয়নি; বরং তাকে ঔপনিবেশিক স্মৃতি, জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং ব্যক্তিগত বিষণ্নতার সংঘর্ষে উদ্ভূত একটি ‘তৃতীয় পরিসর’ হিসাবে চিহ্নিত করা যায়— যেখানে সাংস্কৃতিক সংকরায়ণ, দ্ব্যর্থকতা, অনুকরণ এবং উদ্বাস্তু ধারণাগুলির নিরন্তর ক্রিয়াশীল বলে প্রতীয়মান। রমনা, বুড়িগঙ্গা, সদরঘাট, শহীদ মিনার, প্রেসক্লাব-সন্নিহিত সংবাদপত্র-কার্যালয় এবং পুরান ঢাকার সংকীর্ণ পল্লি— এইসব স্থাননামকে কেন্দ্র করে স্থানিক ও ভৌগোলিক যোগসূত্র তাঁর সাহিত্যে নির্মিত হয়েছে, তার একটি বিস্তারিত পাঠক্রম এই প্রবন্ধে তুলে আনার চেষ্টা থাকবে। ভাষা-আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলন— এই চতুর্বিধ ঐতিহাসিক পর্বের মধ্য দিয়ে ঢাকা শহর যেভাবে ক্রমাগত পুনর্লিখিত হয়েছে এবং পর্যালোচনায় সামগ্রিকভাবে এটি প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাওয়া যায়— শামসুর রাহমানের সাহিত্যকর্মে ঢাকা কোনো স্থিতিশীল স্থানিক ও ভৌগোলিক সত্তা হিসাবে নয়, বরং একটি নিরন্তর দ্বন্দ্বসংকুল ও পুনর্নির্মীয়মাণ সাংস্কৃতিক পরিসর হিসাবেই বিরাজমান।বাংলা কবিতায় শামসুর রাহমানের নাম উচ্চারিত হলে কিছু চিত্রকল্পটি অনিবার্যভাবে উদ্ভাসিত হয়— রমনার সবুজ চত্বর, বায়তুল মোকাররমের চূড়া, বুড়িগঙ্গার কর্দমাক্ত জলধারা এবং পুরান ঢাকার সংকীর্ণ অলিগলি দ্বারা রচিত এক ঘনিষ্ঠ শহুরে বাস্তবতা এবং এটি লক্ষণীয় যে, তাঁর কাব্যে— যেমন ‘রৌদ্র করোটিতে’, ‘বন্দী শিবির থেকে’, ‘নিজ বাসভূমে’, ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’, কিংবা ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’— এবং আত্মজৈবনিক ‘কালের ধুলোয় লেখা’-তে ঢাকা শহর নিছক আনুষঙ্গিক ভৌগোলিক উল্লেখ হিসাবে উপস্থাপিত হয়নি; বরং তা কবির অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে নির্মিত হয়েছে। ঔপনিবেশিক নগর-পরিকল্পনা, দেশভাগ-পরবর্তী জনস্রোত এবং মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর জাতীয় পুনর্গঠন— এই ত্রিবিধ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া ঢাকার ভৌত ও সাংস্কৃতিক অবয়বকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। শামসুর রাহমানের সাহিত্যে প্রতিফলিত ঢাকা-চিত্রকে নিছক বর্ণনামূলক প্রেক্ষাপট হিসাবে না দেখে একটি সংকরায়িত ও দ্বন্দ্বসংকুল সাংস্কৃতিক পরিসর হিসাবে পাঠ করাই শ্রেয়তর; অধিকন্তু, এটিও স্মরণীয় যে, ঢাকা শহর একদা মুঘল সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত, পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক শাসনামলে তা প্রাদেশিক গুরুত্ব লাভ করে এবং সর্বশেষে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হিসাবে তার বর্তমান পরিচিতি নির্ধারিত হয়েছে এবং এই বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক রূপান্তরের প্রতিটি পর্বই ঢাকার ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অবয়বে এক একটি নূতন স্তর সংযোজন করেছে বলে গণ্য হয়ে থাকে, ফলে শহরটিকে কোনো একরৈখিক আখ্যানের মধ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা দুরূহ বলে প্রতীয়মান হয়। শামসুর রাহমান ১৯২৯ সাল থেকে জীবনের সমগ্র কালপর্ব এই শহরেই যাপন করেছেন এবং প্রত্যক্ষভাবে ভাষা-আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনের সাক্ষী হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকেন, তাঁর সাহিত্যে ঢাকার যে বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক ভাষ্য প্রতিফলিত হয়েছে, তাকে একটি সমাজভাষাতাত্ত্বিক ও উত্তর-ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্পাঠ করা সহজতর হয়— ‘আমি এই নগরীর প্রতিটি অলিগলির সঙ্গে আমার আত্মার এক গোপন সংযোগ অনুভব করি।’ —যার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিসত্তা ও নগরসত্তার মধ্যকার অবিচ্ছেদ্য বন্ধনটি সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিতবাহী হয়ে ওঠে।হোমি কে. ভাবা ‘দি লোকেশন অব কালচার’ (১৯৯৪) গ্রন্থে যে তত্ত্বকাঠামো নির্মাণ করেছেন— সংস্কৃতিকে কোনো স্থিতিশীল বা সমসত্ত্ব সত্তা হিসাবে বিবেচনা করা হয়নি; বরং তাকে একটি নিরন্তর আলোচনা-প্রক্রিয়া হিসাবে দেখানো হয়েছে, যা দুই বা ততোধিক সাংস্কৃতিক অবস্থানের মধ্যবর্তী এক অনির্ধারিত পরিসরে— যাকে তিনি ‘তৃতীয় পরিসর’ আখ্যা দিয়েছেন— রচিত হয়। ভাবার মতে, এই তৃতীয় পরিসরেই সাংস্কৃতিক অর্থের সংকরায়ণ সংঘটিত হয় এবং ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব ও ঔপনিবেশিত প্রজার মধ্যকার সম্পর্ক ‘অনুকরণ’ ও ‘দ্ব্যর্থকতা’-এর মাধ্যমে পুনর্বিন্যস্ত হয়ে থাকে; এছাড়া উদ্বাস্তুপনার ধারণাটিও বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ এমন এক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা নির্দেশিত হয়, যেখানে ব্যক্তি নিজ পরিচিত গৃহপরিসরের মধ্যেই এক অপরিচিত, বিচ্ছিন্ন অনুভূতির সম্মুখীন হয়। এটি ছাড়াও, ভাবার ডিসেমিন্যাশন প্রবন্ধে উপস্থাপিত জাতি-নির্মাণের ডাবল টেম্পরালিটি বিষয়ক ধারণাটিও এই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর মাধ্যমে জাতিকে একই সঙ্গে একটি ‘শিক্ষামূলক’ স্থিতিশীল ঐতিহাসিক আখ্যান এবং একটি ‘সম্পাদনামূলক’ নিত্য-পুনরাবৃত্ত বর্তমান অভিজ্ঞতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়; ঢাকা শহরকেও এই দ্বৈত সাময়িকতার প্রতিফলনক্ষেত্র হিসাবে পাঠ করা যেতে পারে, যেখানে মুঘল-ঔপনিবেশিক ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং সমসাময়িক নাগরিক জীবনযাপন একই ভৌগোলিক পরিসরে একযোগে সক্রিয় থাকে। অধিকন্তু, ভাবার ‘সাংস্কৃতিক পার্থক্য’ ও ‘সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য— এর মধ্যকার যে সূক্ষ্ম পার্থক্যরেখা টানা হয়েছে, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য একাধিক পূর্ব-বিদ্যমান সংস্কৃতির সহাবস্থানকে নির্দেশ করে, পক্ষান্তরে সাংস্কৃতিক পার্থক্য সেই প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে যার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অর্থ নিরন্তর নূতনভাবে উচ্চারিত ও পুনর্নির্মিত হতে থাকে এবং এই তাত্ত্বিক প্রতর্কের নিরিখেই শামসুর রাহমানের ঢাকা-বিষয়ক লেখাগুলোয় বিশেষত কবিতায় চিত্রিত নগরটি ঔপনিবেশিক স্থাপত্য-উত্তরাধিকার এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার সংঘর্ষে গঠিত এক সংকরায়িত হাইব্রিড ল্যান্ডস্কেপকেই নির্দেশ করে। হোমি কে. ভাবা স্টিরিওটাইপ বা গণ্ডিবদ্ধ প্রতিচ্ছবি-নির্মাণের যে প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করেছেন, তাও ঢাকা শহরের ঔপনিবেশিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক এবং ঔপনিবেশিক ভ্রমণকাহিনি ও প্রশাসনিক নথিপত্রে ঢাকাকে প্রায়শই একটি ‘পশ্চাৎপদ’, ‘অস্বাস্থ্যকর’ ও ‘বিশৃঙ্খল’ প্রাচ্য নগর, স্থিরীকৃত ঔপনিবেশিক জ্ঞানকাঠামোর দৃষ্টান্ত হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে এবং শামসুর রাহমানের সাহিত্যে এই গণ্ডিবদ্ধ প্রতিচ্ছবির বিপরীতে একটি বহুমাত্রিক, প্রাণবন্ত ও মানবিক ঢাকা-চিত্র নির্মিত হয়েছে, যার দ্বারা ঔপনিবেশিক স্টেরিওটাইপের প্রচ্ছন্ন প্রতিবাদ সম্পাদিত হয়ে থাকে বলে বিবেচিত হতে পারে।শামসুর রাহমানের কবিতায় ঢাকার যে স্থাপত্যিক অভিজ্ঞান বারংবার উল্লিখিত হয়েছে— যথা, পুরাতন হাইকোর্ট ভবন, রমনা কালীবাড়ির ধ্বংসাবশেষ, কার্জন হল, কিংবা ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রেলস্টেশন— তা ভাবার তত্ত্বানুসারে ঔপনিবেশিক ক্ষমতার এক প্রকার স্থাপত্যিক ‘অনুকরণ’-স্মারক হিসাবে পাঠযোগ্য বলে প্রতিভাত হয়। যদিও এই স্থাপনাসমূহ মূলত ঔপনিবেশিক শাসনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যই নির্মিত হয়েছিল, তথাপি স্বাধীনতা-উত্তরকালে তারা বাঙালি জাতীয় স্মৃতির ধারক হিসাবে পুনর্বিনিয়োজিত হয়েছে এবং এই দ্বৈত অর্থবহতাই— অর্থাৎ, একই স্থাপত্যিক পরিসর যেভাবে একদা ঔপনিবেশিক আধিপত্যের প্রতীক এবং পরবর্তীকালে জাতীয় গৌরবের স্মারক, উভয়রূপেই কার্যকর হয়ে থাকে— ভাবা-কথিত ‘দ্ব্যর্থকতা’-র এক প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত বলে বিবেচিত হতে পারে— “তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা,/আর কতকাল/রক্ত ঝরাতে হবে পিতা-পুত্রকে?”— তখন এই উক্তির মধ্য দিয়ে ঢাকা শহরের রাজপথ, যেখানে ১৯৫২, ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস অঙ্কিত হয়েছে, একটি সংকরায়িত স্মৃতি-পরিসর হিসাবে পুনর্নির্মিত হয়েছে বলে বলা যেতে পারে এবং রাজপথ, চত্বর ও প্রশাসনিক ভবনসমূহ যে উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হয়েছিল, ঔপনিবেশিক শাসনযন্ত্রের সুষ্ঠু পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত; অথচ পরবর্তীতে সেই একই স্থাপত্যিক অবকাঠামো জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতিবাদী মিছিল, সমাবেশ ও স্মৃতিচারণের কেন্দ্রস্থল হিসাবে ব্যবহৃত হতে থাকে এবং এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকেই ভাবা কলোনিয়াল মিমিক্রির বিপরীতমুখী প্রয়োগ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে ঔপনিবেশিত জনগোষ্ঠী কর্তৃক ঔপনিবেশিক প্রতীকসমূহ নিজস্ব প্রতিরোধী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুনর্বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে এবং শামসুর রাহমানের কবিতায় এই প্রকার পুনর্বিনিয়োগ প্রক্রিয়া বিশেষভাবে সুস্পষ্ট, যেহেতু তিনি ঔপনিবেশিক স্থাপত্যকে জাতীয় প্রতিরোধের রূপক হিসাবে বারংবার ব্যবহার দেখা যায়।‘কালের ধুলোয় লেখা’ শীর্ষক আত্মজৈবনিক আখ্যানে শৈশবের মহুতটুলি অঞ্চলের যে বর্ণনা প্রদত্ত হয়েছে, তাতে পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার স্মৃতি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি এক অবিচ্ছেদ্য গ্রন্থিতে আবদ্ধ হয়ে প্রতিভাত হয়। এই বর্ণনায় ভাবা-কথিত উদ্বাস্তু ধারণাটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য বলে মনে করা হয়, যেহেতু নিজ জন্মভূমির অন্তরঙ্গ পরিসরটিই কবির নিকট ক্রমশ অপরিচিত ও বিপদসংকুল হয়ে উঠেছিল বলে বর্ণিত হয়েছে। অধিকন্তু, তাঁহার নগর-কেন্দ্রিক অসংখ্য কবিতায়— যেখানে নিঃসঙ্গ পথিক, জনারণ্যে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিসত্তা এবং যান্ত্রিক নগরজীবনের প্রতি এক গভীর বিতৃষ্ণা বারংবার প্রকাশিত হয়েছে— ঢাকা শহরকে এক প্রকার ‘গৃহ’ ও ‘পরবাস’-এর মধ্যবর্তী দোদুল্যমান পরিসর হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে এবং এই দোদুল্যমানতাই, ভাবার তত্ত্বানুসারে, উপনিবেশোত্তর নাগরিক সত্তার এক অনিবার্য মনস্তাত্ত্বিক লক্ষণ বলে গণ্য হয়ে থাকে, যেখানে পরিচিতি ও বিচ্যুতি, আত্মীয়তা ও বিচ্ছিন্নতা— এই বিপরীতধর্মী অনুভূতিদ্বয় একই সঙ্গে সক্রিয় থাকে এবং শামসুর রাহমান যখন শৈশবের প্রতিবেশকে স্মরণ করে লিখেছেন, তখন সেই স্মৃতিচারণায় নস্টালজিয়া ও ভীতি— উভয় অনুভূতিই একত্রে বিরাজমান থাকে, যা প্রমাণ করে যে ব্যক্তিগত গৃহপরিসরও ঔপনিবেশিক-উত্তর সামাজিক টানাপোড়েনের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি— এটি ছাড়াও, নগরায়ণের দ্রুত অগ্রগতির ফলে পুরাতন পাড়াসমূহ যেভাবে ভেঙে নূতন করে গড়ে উঠছে, সেই প্রক্রিয়াকেও কবি এক প্রকার বেদনাদায়ক বিচ্ছিন্নতা হিসাবে অনুভব করেছেন বলে একাধিক রচনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায় এবং ঢাকা শহর কবির নিকট একদিকে যেমন আত্মপরিচয়ের উৎস, অন্যদিকে তেমনি এক ক্রমপরিবর্তনশীল, অচেনা হয়ে ওঠা পরিসর— এই দ্বৈততাই তাঁহার নগর-কবিতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসাবে চিহ্নিত করা যায়।ভৌগোলিক যোগসূত্র ও জাতীয় সংহতির নির্মাণ যেন শামসুর রাহমানের সাহিত্যে ঢাকার নির্দিষ্ট স্থাননামসমূহ— যেমন শহিদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন, কিংবা আজিমপুর কবরস্থান— যেভাবে পুনঃপুনঃ আবর্তিত হয়েছে, তাতে একটি সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক যোগসূত্র নির্মিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সামষ্টিক জাতীয় ইতিহাস এক অভিন্ন সূত্রে গ্রথিত হয়ে উঠেছে। “আসাদের শার্ট” কবিতায় যেভাবে একটি রক্তরঞ্জিত পোশাক ঢাকার রাজপথের প্রতীকে রূপান্তরিত হয়েছে, তা ভাবা-কথিত সাংস্কৃতিক অনুবাদেও একটি প্রণিধানযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে, যেখানে ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি একটি নগর-ভিত্তিক সামষ্টিক প্রতীকে উত্তরিত হয়ে থাকে। শামসুর রাহমানের কাব্যভাষায় ঢাকা শহর কেবল একটি প্রশাসনিক রাজধানী হিসাবে অঙ্কিত হয়নি; বরং তাকে এক ‘জীবন্ত পাঠ্য’ হিসাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যা ঔপনিবেশিক অতীত, জাতীয়তাবাদী বর্তমান এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যবর্তী তৃতীয় পরিসরে অবস্থান করে থাকে— “এই শহরে আমার আপন ঠিকানা নেই, / তবু এই শহরই আমাকে ঠিকানা দিয়েছে।”—এই পঙক্তিদ্বয়ের মধ্য দিয়ে ঢাকার প্রতি কবির যে দ্বৈরথমূলক সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে, তা ভাবার তৃতীয় পরিসর তত্ত্বের একটি মূর্ত রূপায়ণ বলে বিবেচিত— এটি ছাড়াও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনা— যেমন মধুর ক্যান্টিন, কলাভবন ও কার্জন হল— কবির অসংখ্য রচনায় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরোধ ও ছাত্র-আন্দোলনের প্রতীকী কেন্দ্র হিসাবে বারংবার উপস্থাপিত হয়েছে, যার দ্বারা একটি নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রাতিষ্ঠানিক ভৌগোলিক পরিসরের সঙ্গে জাতীয় রাজনৈতিক চেতনার সংযোগ সুদঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করা হয়।নদী, জলাভূমি ও সীমান্তবর্তী পরিসরের রূপকল্প যেমন বুড়িগঙ্গা নদী, যা ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক অস্তিত্বের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে সংশ্লিষ্ট; শামসুর রাহমানের কাব্যভাষায় নিছক একটি প্রাকৃতিক জলধারা হিসাবে বিবেচিত হয়নি, বরং তাকে নগর ও গ্রাম, অতীত ও বর্তমান, শুদ্ধতা ও কলুষতার মধ্যবর্তী এক সীমান্তরেখা হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে। ভাবার তত্ত্বানুসারে সীমান্তবর্তী পরিসরই সাংস্কৃতিক সংকরায়ণের প্রকৃষ্ট ক্ষেত্র হিসাবে গণ্য, সেহেতু বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী সদরঘাট অঞ্চল, যেখানে গ্রামীণ জনস্রোত ও নাগরিক ব্যস্ততা একই সঙ্গে সক্রিয় থাকে, তাকে এক প্রকার জীবন্ত ‘তৃতীয় পরিসর’ হিসাবে পাঠ করা সংগত বলে প্রতীয়মান হয়; অধিকন্তু, নদীর দূষণ ও তার ঐতিহাসিক গৌরবের মধ্যকার যে বৈপরীত্য কবিতায় বারংবার নির্দেশিত হয়েছে, তার দ্বারা ঔপনিবেশিক-উত্তর নগরায়নের এক গভীর সংকটও ইঙ্গিতবাহী হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়— “নদী যেমন তার আপন গতিপথ ভুলে যায় না, নগরও তেমনি তার প্রথম জন্মস্মৃতি সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হতে পারে না।” —এই উক্তির মধ্য দিয়ে নগর ও নদীর মধ্যকার যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কটি স্পষ্ট; শামসুর রাহমানের কাব্যদর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সঙ্গতিপূর্ণ বলে বিবেচিত; তদুপরি, সদরঘাটের লঞ্চঘাট ও তৎসংলগ্ন বাজার-পরিসরকেও কবি এক প্রকার সাংস্কৃতিক সংযোগস্থল হিসাবে চিত্রিত করেছেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের ভাষা, পোশাক ও জীবনাচরণ একই ভৌগোলিক বিন্দুতে সমাগত হয়ে এক প্রকার অনির্ধারিত সাংস্কৃতিক মিশ্রণ সৃষ্টি করে থাকে, যাকে ভাবার পরিভাষায় ইন-বিটুইননেস-এর একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত হিসাবে অভিহিত।স্বৈরাচার-বিরোধী কাল ও প্রতিরোধের নগর-পরিসর এবং এরশাদ-বিরোধী স্বৈরাচার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত কবিতাসমূহে ঢাকা শহরের রাজপথ, বিশেষত শাহবাগ ও নিউমার্কেট সংলগ্ন অঞ্চল, প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের এক প্রতীকী মঞ্চ হিসাবে পুনর্নির্মিত হয়েছে বলে লক্ষিত হয়; ভাবার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচারে, এই পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়াকে সাংস্কৃতিক ‘পুনর্লিখন’, যার দ্বারা ক্ষমতাকাঠামোর বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিসরের সঙ্গে চিরস্থায়ীভাবে সংযুক্ত হয়ে পড়ে এবং ঢাকা শহরের প্রতিটি প্রধান সড়ক ও চত্বর— যা একদা কেবলমাত্র যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হইত— ক্রমে ক্রমে সামষ্টিক স্মৃতি ও রাজনৈতিক চেতনার ধারক হিসাবে রূপান্তরিত হয়েছে বলে প্রতিপন্ন হয় এবং এই প্রক্রিয়াটিকেই ভাবা-কথিত সাংস্কৃতিক সংকরায়ণের এক রাজনৈতিক প্রকাশ; যেখানে ভৌত পরিসর ও রাজনৈতিক চেতনা একে অপরের মধ্যে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশ্রিত— তদুপরি, স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনকালে রচিত কবিতাসমূহে সামরিক শাসনের প্রতীক হিসাবে যে ব্যারিকেড, টিয়ারগ্যাসের ধোঁয়া ও পুলিশি প্রহরার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে, তার বিপরীতে জনতার সম্মিলিত কণ্ঠস্বর ও মিছিলের চিত্রও সমান্তরালভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যার ফলে ঢাকার রাজপথ একটি দ্বৈরথমূলক শক্তি-প্রদর্শনের মঞ্চ হিসাবে রূপান্তরিত হয়ে উঠেছে বলে বিবেচিত হতে পারে। একুশে, শহিদ মিনার ও ভাষা-আন্দোলনের স্মৃতি-ভূগোল যেন ভাষা-আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহিদ মিনার, যা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত, শামসুর রাহমানের কবিতায় একটি পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয় স্মৃতি-ভূগোলের কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে লক্ষিত হয় এবং প্রতি বৎসর একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে যে সহস্র সহস্র মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য এই স্থানে সমবেত হয়ে থাকেন, তাদের এই যৌথ আচরণকেই ভাবার পারফরমোটিভ জাতীয়তাবাদের একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত— যেখানে জাতীয় পরিচিতি কোনো স্থিতিশীল ঐতিহাসিক তথ্য হিসাব নয়, বরং একটি পুনরাবৃত্ত আচারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবৎসর নতুনভাবে আবিভূর্ত।শামসুর রাহমানের একুশে-বিষয়ক কবিতাসমূহে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণকে কেবল একটি স্মারক-স্থাপনা নয়, বরং একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক পরিসর হিসাবে চিত্রিত, ভাষাশহীদদের রক্তস্মৃতি এবং সমসাময়িক প্রজন্মের ভাষাচর্চা একই ভৌগোলিক বিন্দুতে সংযুক্ত হয়ে থাকে এবং এই সংযোগ প্রক্রিয়াকেই ভাবা-কথিত ‘দ্বৈত সাময়িকতা’-র একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ; অতীতের আত্মত্যাগ ও বর্তমানের শ্রদ্ধাঞ্জলি— উভয়ই একই স্থানে, একই সময়ে, একটি অবিচ্ছেদ্য অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বারান্দা ও তৎসংলগ্ন রাজপথ যেভাবে প্রতিরোধের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিল, তাও কবির রচনায় বারংবার স্মরণ করা হয়েছে। (বাকি অংশ আগামী সংখ্যায় পড়ুন)
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিশেষ অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে শুক্রবার
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ১৪১টি ফ্লাইটের কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৬৬টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৭৫ টি। এসব ফ্লাইটের কারণে এ পর্যন্ত ভোগান্তিতে পড়েছেন ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী...
Discussion
Please Sign In to join the discussion.