World
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি, জানুন বিস্তারিত
তিনটি দেশকে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা, সামরিক সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার অঙ্গীকারবদ্ধ করেছে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা প্রথম ১০ বছরের মধ্যে প্রত্যাহার করা যাবে না। তুর্কি সরকার মঙ্গলবার তাদের দেশের সংসদে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মূল টেক্সট বা পাঠ্য পেশ করেছে।তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে গত আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হলো। এই চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে একে অপরের প্রতিরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে, যা অনেকটা নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি বা ন্যাটোর (NATO) অনুচ্ছেদ ৫-এর সমতুল্য।মিডল ইস্ট আই এক্সক্লুসিভভাবে প্রাপ্ত এই চুক্তির টেক্সটে নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে এতে জোর দেওয়া হয়েছে যে, যেকোনো অংশগ্রহণকারী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য দেশগুলো পরস্পরকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “যদি কোনো ‘পক্ষ’ (স্বাক্ষরকারী দেশ)-এর আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকির মুখে পড়ে বা বিপদগ্রস্ত হয়, তবে পক্ষগুলো সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পথ বা মাধ্যম ব্যবহার করবে।”দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “কোনো একটি ‘পক্ষ’-এর ওপর বাহির থেকে আসা সশস্ত্র হামলাকে সব ‘পক্ষ’-এর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।”“যদি কোনো একটি ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা দেশের গোষ্ঠীর দ্বারা সশস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে অন্যান্য ‘পক্ষ’ তৎক্ষণাৎ আক্রান্ত ‘পক্ষ’-কে সাহায্য করবে এবং পারস্পরিক সহায়তার সব ধরনের উপায় ও মাধ্যম পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করবে।”এই অনুচ্ছেদে আরও যোগ করা হয়েছে যে, সাহায্য বা সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের পর যে ধরনের সমর্থন দেওয়া দরকার, তার পরিধি ও প্রকৃতি পক্ষগুলো যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে তারা তাদের কাছে থাকা সম্পদ ও সামর্থ্যের (সামরিক উপায় ও সক্ষমতাসহ) সীমার মধ্যে থেকে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।চুক্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং একে অপরকে সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সামগ্রী সরবরাহের বিষয়ে সহযোগিতার বিধান রাখা হয়েছে। এতে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারের জন্য একটি কাঠামোর রূপরেখাও প্রস্তুত করা হয়েছে।মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত এই চুক্তির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বা মেয়াদের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ নেই।চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর কেবল ১০ বছর অতিবাহিত হলেই স্বাক্ষরকারী দেশগুলো এতে থেকে নাম প্রত্যাহার করতে পারবে। তবে এর জন্য অন্তত তিন মাস আগে অন্যান্য পক্ষগুলোকে কূটনৈতিক মাধ্যমে লিখিত নোটিশ বা বার্তা দিতে হবে।
Discussion
Please Sign In to join the discussion.