Bangla
৪ হাজার পর্যটককে উদ্ধার
সাজেকে অবরোধের মধ্যে পর্যটকদের ওপর ইউপিডিএফ’র হামলা
Bangla
সাজেকে অবরোধের মধ্যে পর্যটকদের ওপর ইউপিডিএফ’র হামলা
বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর কোনো সাময়িক বা নির্দিষ্ট ঋতুভিত্তিক স্বাস্থ্য সমস্যা নয়। এটি ক্রমেই দীর্ঘস্থায়ী জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডের ২০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ (১,১৫,৬১৭ জন) এবং মোট মারা গেছেন ৩৫৭ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও ১,৩৬৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৫ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের (সপ্তাহ ৪২) হিসাব অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা ৫,৩০৫ জন এবং সাপ্তাহিক মৃত্যু ১৫ জন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) তীব্র সংকট, প্লাটিলেটের জন্য স্বজনদের হাহাকার এবং প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় হাজারের বেশি নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার ভয়াবহ চিত্র স্পষ্ট করে যে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পর চিকিৎসার ব্যবস্থা কিংবা মশা নিধনের সাময়িক অভিযান চালিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রয়োজন বছরব্যাপী প্রতিরোধ, বিজ্ঞানভিত্তিক নজরদারি এবং সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।ডেঙ্গুর এই অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত ও দ্রুত নগরায়ণ, জলাবদ্ধতা এবং দুর্বল নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সরাসরি ও গভীর ভূমিকা রয়েছে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্য গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং অনিয়মিত পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অসময়ে অতিবৃষ্টি এবং বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতা এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ও ভাইরাসের বিস্তারকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করছে। উপযুক্ত তাপমাত্রায় মশার শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের বহিঃস্থ ‘ইনকিউবেশন পিরিয়ড’ বা ভাইরাস সংক্রমণক্ষম হয়ে ওঠার সুপ্তিকাল বহুলাংশে কমে আসে। ফলে একটি সংক্রমিত এডিস মশা তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যেই নতুন নতুন মানবদেহে দ্রুত সংক্রমণ ঘটানোর সক্ষমতা অর্জন করে। অন্যদিকে, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ভবন নির্মাণ এলাকা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পাত্র এবং বাসাবাড়ির ছাদবাগানে জমে থাকা পানি মশার আদর্শ প্রজননস্থলে পরিণত হচ্ছে। ফলে কেবল হাসপাতালমুখী চিকিৎসা দিয়ে এই জটিল পরিবেশগত ও বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট সামলানো একেবারেই অসম্ভব।আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতিগুলো মূলত ‘সংকট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ানিર્ભর’। মহামারি বা প্রাদুর্ভাব বাড়লে কেবল হাসপাতালে শয্যা বাড়ানো কিংবা মশা নিধনে রাসায়নিক ওষুধ ছিটানোর সাময়িক তৎপরতা চোখে পড়ে। অথচ কোথায় মশার বংশবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে, কোন কোন এলাকায় প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং সিটি করপোরেশন কর্তৃক ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা কতখানি বজায় রয়েছে, তা প্রতিনিয়ত বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা জরুরি। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া নির্বিচারে কীটনাশক ছিটানো কেবল বিপুল অর্থেরই অপচয় ঘটায় না, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য ও অন্যান্য উপকারী পতঙ্গের চরম ক্ষতি সাধন করে। তাই লার্ভার উৎস নির্মূল, নিয়মিত পতঙ্গতাত্ত্বিক জরিপ, নগর বর্জ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত পরিবেশবান্ধব নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।এ ক্ষেত্রে ‘ওয়ান হেলথ’ বা এক স্বাস্থ্য পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই পদ্ধতি মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। ডেঙ্গু প্রাণী থেকে সরাসরি মানুষের মধ্যে ছড়ানো রোগ নয়; সংক্রমিত এডিস মশার মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ওয়ান হেলথের প্রয়োগ বলতে মানুষ, বাহক মশা, পরিবেশ ও জলবায়ুর সম্পর্ককে একসঙ্গে বিবেচনা করা বোঝায়। এর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, কীটতত্ত্ববিদ, পরিবেশবিজ্ঞানী, জলবায়ু গবেষক ও নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘বিশেষ টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তবে কেবল কাগজ-কলমে বা প্রশাসনিক সমন্বয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে এই টাস্কফোর্সে কীটতত্ত্ববিদ, পরিবেশবিজ্ঞানী ও ওয়ান হেলথ বিশেষজ্ঞদের সরাসরি যুক্ত করে ওয়ান হেলথ ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার তথ্য, মশার ঘনত্ব, প্রজননস্থলের অবস্থান এবং হাসপাতালের রোগীসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে একটি জাতীয় নজরদারি ও আগাম সতর্কীকরণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করা এবং সংক্রমণ বৃদ্ধির আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ব্যবস্থাও করতে হবে, যেন মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়।পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণকে সচেতন হতে হবে। তবে নাগরিকদের ওপর দায় চাপিয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ, নালা পরিষ্কার ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব।ডেঙ্গু মোকাবিলায় এখন বিচ্ছিন্ন ও সাময়িক উদ্যোগের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি, গবেষণানির্ভর এবং জবাবদিহিমূলক জাতীয় কৌশল প্রয়োজন। চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধ, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত নজরদারি ও আন্তমন্ত্রণালয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সাফল্য নির্ধারিত হওয়া উচিত শুধু কতজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলো, তার ভিত্তিতে নয়; বরং কতটি সংক্রমণ প্রতিরোধ করা গেল এবং কতটি জীবন রক্ষা করা গেল, তার ভিত্তিতে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রতিবছর প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।[লেখক: সাবেক চেয়ারম্যান, ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়; ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাবেক সদস্য]
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের উজোবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়া পর্যটকবাহী গাড়িবহর আটকে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাজেকে সড়ক অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৭২ বোতল নেশাজাতীয় ভারতীয় নিষিদ্ধ
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বেদনাবিধুর ইতিহাস। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন নিহত হন। ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়কের দাবিতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলন দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা, জনসম্পৃক্ততা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তার দাবি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০১৭ সালে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০২৬ সালে দিবসটি দশমবারের মতো পালিত হচ্ছে। এই দিবস আমাদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করার পাশাপাশি অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ করণীয় মূল্যায়নের সুযোগ করে দিয়েছে।
ফরিদপুরের সদরপুরে হানিট্র্যাপে ফেলে এক মোবাইল ব্যবসায়ীকে ১৮ ঘন্টা আটকে রেখে মারধর ও ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং জড়িত দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের...
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই বলেছেন, সবার জানা উচিত যে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের একটি মূল্য আছে। যদি কূটনীতির মাধ্যমে এই বোঝাপড়া তৈরি করা যায়, তবে আমরা কূটনীতিকেই বেছে নেব; কিন্তু যদি যুদ্ধ চলতে থাকে, তবে পাল্টা জবাব দেয়ার জন্য ইরানের কাছে প্রয়োজনীয় অস্ত্র শস্ত্র রয়েছে।
রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজারে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে অবরোধকারীদেরদের গুলি বিনিময় হয়েছে। এসময় কয়েকজন সেনা সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সাজেকের উজোবাজারে আটকে থাকা পর্যটকরা নিরাপদে গন্তব্যে চলে গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সাজেকের উজোবাজারে অবস্থারত বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রেস...
২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর কানাডার আলবার্টা প্রদেশে অনুষ্ঠিত গণভোট দেশটির কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক রাজনীতি, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং জাতীয় ঐক্য নিয়ে বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত করেছে। গণভোটের দশম প্রশ্নে ভোটারদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল—আলবার্টা কানাডার প্রদেশ হিসেবে থাকবে, নাকি কানাডার সংবিধান অনুযায়ী প্রদেশটির বিচ্ছিন্নতা নিয়ে একটি বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ ভোটার কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে এবং ২৩.৪ শতাংশ পরবর্তী বিচ্ছিন্নতা-প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন। ইলেকশন কানাডা সূত্রে জানা যায়, সরকারি ফল প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৬।এই ফলাফলকে শুধু একটি প্রাদেশিক ভোটের পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করলে এর পূর্ণ রাজনৈতিক তাৎপর্য উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। এটি একদিকে কানাডার জাতীয় ঐক্যের পক্ষে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সংকেত, অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় অসন্তোষ, প্রাদেশিক ক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে চলমান বিতর্কের সুস্পষ্ট প্রতিফলন। তবে এই গণভোটকে আলবার্টার বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না। ভোটাররা সরাসরি স্বাধীনতার প্রশ্নে নয়, বরং ভবিষ্যতে সে বিষয়ে বাধ্যতামূলক গণভোটের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে মত দিয়েছেন।গণভোটের সাংবিধানিক তাৎপর্যকানাডার সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, কোনো প্রদেশ একতরফাভাবে গণভোটের ফল বা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে আইনগতভাবে কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। ১৯৯৮ সালের ‘কুইবেকের বিচ্ছিন্নতা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত’ মামলায় কানাডার সুপ্রিম কোর্ট ব্যাখ্যা করেন, বিচ্ছিন্নতার পক্ষে স্পষ্ট প্রশ্নে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পাওয়া গেলে তা সাংবিধানিক আলোচনার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু এমন ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাধীনতা নিশ্চিত করে না।২০০০ সালের ‘স্পষ্টতা আইন’ও এই নীতির ওপর গুরুত্ব দেয়। গণভোটের প্রশ্নের স্পষ্টতা, বিচ্ছিন্নতার পক্ষে সমর্থনের ব্যাপকতা এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনার পাশাপাশি সাংবিধানিক আলোচনা, সম্পদ ও দায়ের বণ্টন, সীমান্ত, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।২০২৬ সালের গণভোটে ভোটাররা সরাসরি স্বাধীনতার পক্ষে বা বিপক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। তারা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, স্বাধীনতার প্রশ্নে পরবর্তী বাধ্যতামূলক গণভোটের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না। তাই ফলাফলটির তাৎপর্য মূলত পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের সঙ্গে সম্পর্কিত। কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন দেয়নি। তবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও কেন্দ্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে ভবিষ্যৎ বিতর্কের অবসানও ঘটায়নি।অর্থনীতি ও বিচ্ছিন্নতার সম্ভাব্য প্রভাবআলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বিশ্লেষণে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো অপরিহার্য। প্রদেশটির তেল, গ্যাস, পেট্রোরসায়ন, কৃষি ও অন্যান্য শিল্প কানাডার অভ্যন্তরীণ বাজার, পরিবহনব্যবস্থা এবং আর্থিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। বিচ্ছিন্নতা বাস্তবায়িত হলে আন্তপ্রাদেশিক পাইপলাইন, বাণিজ্য, মুদ্রা, ব্যাংকিং, সরকারি ঋণ, পেনশন, কর এবং বিদ্যমান আর্থিক দায়বদ্ধতার বণ্টন নিয়ে জটিল আলোচনা প্রয়োজন হতো।একইভাবে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি শিল্পপ্রকল্পকে প্রভাবিত করতে পারত। তবে এগুলো সম্ভাব্য প্রভাব, নিশ্চিত ফল নয়। প্রকৃত অর্থনৈতিক পরিণতি নির্ভর করত বিচ্ছিন্নতার শর্ত, নতুন আইনি কাঠামো, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং কানাডা ও আলবার্টার মধ্যকার ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর।এখানে মৌলিক প্রশ্ন হলো, আলবার্টার অর্থনৈতিক স্বার্থ কানাডার যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে থেকে অধিক কার্যকরভাবে রক্ষা করা সম্ভব, নাকি রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন প্রয়োজন? গণভোটের ফলাফল বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাবকে সমর্থন করেনি। ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় অর্থনৈতিক ক্ষমতা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বাস্তবসম্মত সমাধান বিশেষ গুরুত্ব পাবে।আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতাআলবার্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় ফার্স্ট নেশনস বা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার উপেক্ষা করা যায় না। কানাডার ক্রাউনের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক চুক্তি রয়েছে, যা ভূমি, সম্পদ, শাসনব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো নতুন রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন উঠলে এসব চুক্তির ধারাবাহিকতা ও অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।আলবার্টার বিচ্ছিন্নতার উদ্যোগ নিয়ে আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর উদ্বেগের একটি প্রধান দিক হলো, কানাডার সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তিগত অধিকার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে। তাদের অধিকার কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ওপর নির্ভরশীল কোনো বিষয় নয়; এটি সাংবিধানিক ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত।অতএব, আলবার্টার স্বাধীনতার প্রশ্নকে শুধু প্রাদেশিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয় হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। ভূমির অধিকার, চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অবস্থান যেকোনো সাংবিধানিক পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকা উচিত।জাতীয় ঐক্য ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভবিষ্যৎআলবার্টার গণভোটের ফলাফল কানাডার জাতীয় ঐক্যের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকেত। তবে এই ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সব সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না। জাতীয় ঐক্য টেকসই করতে হলে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, নীতিগত সংলাপ এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের ন্যায্য সমন্বয় প্রয়োজন।প্রথমত, আঞ্চলিক অসন্তোষকে শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করলে এর অন্তর্নিহিত কারণগুলো অমীমাংসিত থেকে যেতে পারে। জ্বালানি নীতি, রাজস্ব বণ্টন ও প্রাদেশিক ক্ষমতা নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন।দ্বিতীয়ত, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রাজনৈতিক দাবির প্রতি জনসমর্থনের পরিসর নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আলবার্টার ভোটাররা বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করার পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতার পক্ষে মত দেওয়া নাগরিকদের উদ্বেগও গণতান্ত্রিক আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।তৃতীয়ত, জাতীয় ঐক্য কেবল ঐতিহাসিক পরিচয় বা আবেগের ওপর নির্ভর করে না। নাগরিকদের বিশ্বাস করতে হবে যে তাদের অঞ্চল, অর্থনীতি ও অধিকার নীতিনির্ধারণে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই ঐক্য রক্ষার জন্য শুধু বিচ্ছিন্নতার বিরোধিতা নয়, কার্যকর যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থাও জরুরি।কুইবেক ও আলবার্টার অভিজ্ঞতার তুলনা এ ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। কুইবেকের আন্দোলনে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় প্রধান ভূমিকা পালন করেছে; আলবার্টার আন্দোলনে অর্থনৈতিক স্বার্থ, জ্বালানি নীতি এবং প্রাদেশিক ক্ষমতার প্রশ্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই পার্থক্য দেখায়, কানাডার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনগুলোকে একই রাজনৈতিক ছাঁচে বিচার করা যায় না।গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট, আঞ্চলিক স্বার্থ ও জাতীয় ঐক্যের ভারসাম্যআলবার্টার ১৯ অক্টোবর ২০২৬-এর গণভোট কানাডার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, অধিকাংশ ভোটার কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে পরবর্তী বাধ্যতামূলক গণভোটের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই ফলাফলকে কানাডার জাতীয় ঐক্যের পক্ষে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সংকেত হিসেবে দেখা যায়। তবে এটি আলবার্টার আঞ্চলিক অসন্তোষ, অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি বিলুপ্ত করে না।কানাডার অভিজ্ঞতা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়: কোনো যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়িত্ব শুধু বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্ভর করে তার রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকরভাবে আঞ্চলিক ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তার ওপর। আলবার্টার অর্থনৈতিক গুরুত্ব, কুইবেকের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।এই গণরায় বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে জনম্যান্ডেট দেয়নি। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার ও আলবার্টার প্রাদেশিক সরকার এই ফলাফলকে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, ন্যায্য ক্ষমতা বণ্টন এবং পারস্পরিক আস্থায় রূপান্তর করবে। আঞ্চলিক অসন্তোষকে উপেক্ষা না করে সাংবিধানিক সংলাপ ও গণতান্ত্রিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করাই হবে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রকৃত পরীক্ষা।আলবার্টার গণরায় কানাডার ঐক্যের পক্ষে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার বার্তা দিয়েছে। কিন্তু সেই ঐক্যের স্থায়িত্ব নির্ভর করবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, দায়বদ্ধ ও কার্যকর যুক্তরাষ্ট্র গড়ে তোলার ওপর—যেখানে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং জাতীয় সংহতি পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে সাংবিধানিক সমঝোতার মাধ্যমে সহাবস্থান করতে পারে।[লেখক: কানাডাপ্রবাসী]
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসনসংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের ঘাটতির প্রতিবাদে সম্প্রতি রাজপথে নেমেছেন লাখ লাখ মানুষ। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। যদিও অনেক বিক্ষোভই ছিল শান্তিপূর্ণ ছিল।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, ‘শহীদ ওসমান হাদীকে কোনো ব্যক্তিগত কারণে নয়, কোনো পারিবারিক কারণে নয়, তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলার জন্য হত্যা করা হয়েছে।’
ভূমধ্যসাগরে সমুদ্রসীমা নির্ধারণে তুরস্কের সঙ্গে ২০১৯ সালে করা চুক্তিতে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক পার্লামেন্টের অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান। তিনি এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেছেন, এটি দুই দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
বয়স আঠারো পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের অনেক মেয়ের কাঁধে চাপছে সংসারের দায়িত্ব। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা, সংকুচিত হচ্ছে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ। ইউনিসেফের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে।অর্থাৎ, দেশের প্রায় প্রতি দুটি কন্যা শিশুর একটি বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। বাল্যবিয়ের এই চিত্র উদ্বেগজনক। বাল্যবিয়ে বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানান প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারপর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না কেন সেটা একটা প্রশ্ন।বাল্যবিয়ের পেছনে দারিদ্র্য, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, শিক্ষার অভাব ও কুসংস্কার বড় ভূমিকা রাখে। অনেক অভিভাবক মেয়েকে পরিবারের বোঝা মনে করেন। তবে বিয়ে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এতে মেয়েদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, শিক্ষার পথ রুদ্ধ হয় এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। অল্প বয়সে মাতৃত্ব মা ও শিশুর স্বাস্থ্যেও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।বাল্যবিয়ে নিরোধে আইন রয়েছে। শুধু আইন থাকলেই বাল্যবিয়ে বন্ধ হবে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিয়ের আগে বয়স যাচাই করতে হবে। বাল্যবিয়ের আয়োজন ও নিবন্ধনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে, যাতে অভাবের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ না হয়।মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদেরও সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ৩২ জন। মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, বাসটির চালক ও সহকারী পেছনে গিয়ে বসার পর সুপারভাইজার বাস চালাচ্ছিলেন।সড়ক দুর্ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ বছরে ৭২ হাজার ৭৩৬টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন। এসব সংখ্যা কেবল পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ। আহত ব্যক্তিদের অনেকে দীর্ঘদিন শারীরিক ও আর্থিক দুর্ভোগের শিকার হন।সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকের অবহেলা এবং সড়কের নির্মাণগত ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। চালকের লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস যাচাইয়ে দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। পরিবহন খাতে অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও জবাবদিহির অভাবও সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে বাধা সৃষ্টি করে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে দুর্ঘটনা কমানো কঠিন।সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি শিশুদের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। গ্রামীণ সড়কে বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল শিশুদের ঝুঁকিতে ফেলছে। নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা, চালকদের সতর্কতা এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নৌপথ ও রেলপথের ব্যবহার বাড়িয়ে সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে হবে। পরিকল্পিত গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।পাশাপাশি চালকের যোগ্যতা যাচাই, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং আইন প্রয়োগে কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না। দুর্ঘটনার পর তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে দায়িত্ব সারলে চলবে না। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি থাকা জরুরি। সড়কে মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সমাজের দুর্নীতিবাজেরা এ দেশে এমপি-মন্ত্রী হয়: স্পিকার
ওপেনএআই তাদের জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীদের জন্য ‘লকড চ্যাটস’ নামের নতুন একটি প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা-সুবিধা চালু করেছে।
Discussion
Please Sign In to join the discussion.