গাজীপুরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা ও পুলিশের এসআই নিহত
World

গাজীপুরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা ও পুলিশের এসআই নিহত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে রাতের টহল চলাকালে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় বিএনপির স্থানীয় নেতা রফিকুল ইসলাম ও পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় জড়িত কাভার্ডভ্যান চালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে সামনে টহল ও ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্বে ছিলেন এসআই মিজানুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল। একপর্যায়ে মহাসড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন তারা। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যান তাদের ধাক

ManabZamin • 11 Days, Oct 23, 2026 11:09 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা

বিচ-কার্নিভালকে কেন্দ্র করে শুক্রবারেও (২৩ অক্টোবর) পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে পর্যটন কেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। অনেক

DainikBangla • 11 Days, Oct 23, 2026 11:06 AM
0
• 0 min read
Entertainment

২৫২ টাকার পাঞ্জাবী ক্রেতাদের জন্য আরেকটি পাঞ্জাবী উপহারের ঘোষণা সেই নবীন ফ্যাশনের

দৈনিক আমার দেশ বাংলাদেশসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউজ পোর্টাল, প্রধান সংবাদ শিরোনাম,, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।

AmarDesh • 11 Days, Oct 23, 2026 11:04 AM
0
• 0 min read
World

গরুর দুধের প্রসাদ খেয়ে বিপত্তি, টিকা নিলেন ৪৫০ গ্রামবাসী

ভারতের উত্তর প্রদেশের গোরখপুর জেলার দুটি গ্রামের প্রায় ৪৫০ জনকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। জলাতঙ্কে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা একটি গরুর দুধ দিয়ে তৈরি প্রসাদ খাওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই টিকা দেওয়া হয় তাদের। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান...

Ittefaq • 11 Days, Oct 23, 2026 11:03 AM
0
• 0 min read
Bangla

ইবাদত কবুলের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

ইবাদত একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নামাজ, রোজা, দান-সদকা কিংবা মানুষের উপকার করা—সবই নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। তবে শুধু আমল করলেই

ShomoyerAlo • 11 Days, Oct 23, 2026 11:03 AM
0
• 0 min read
Bangla

চলনবিলের অস্তিত্বের সংকট: প্রকৃতি বাঁচলেই বাঁচবে জীবিকা

একটি জলাভূমি হারিয়ে গেলে শুধু পানির পরিমাণ কমে যায় না; হারিয়ে যায় মাছের আবাস, কৃষির সম্ভাবনা, মানুষের জীবিকা এবং একটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিচয়। চলনবিল আজ সেই বাস্তবতার মুখোমুখি। দখল, দূষণ, পানিপ্রবাহের সংকট ও নির্বিচার সম্পদ আহরণে বিপর্যস্ত এ জলাভূমির ভবিষ্যৎ এখন আর শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, এটি হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন।একসময় বর্ষায় দিগন্তজোড়া জলরাশি, দেশি মাছের প্রাচুর্য আর প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ছিল চলনবিল। বিস্তীর্ণ জলাভূমিকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল কৃষি, মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদনের অর্থনীতি। বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশিতে নৌকা চলত, আর শুষ্ক মৌসুমে বিলের পানি ও পলিকে কাজে লাগিয়ে চলত কৃষিকাজ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সেই পরিচিত দৃশ্যপট। নদী-খাল ভরাট, জলাভূমি দখল, অপরিকল্পিত অবকাঠামো, পানির স্বল্পতা ও অনিয়ন্ত্রিত সম্পদ আহরণ চলনবিলের স্বাভাবিক পরিবেশকে চাপে ফেলেছে। এর মূল্য দিচ্ছে প্রকৃতি ও মানুষ—উভয়ই।আয়তনের হিসাব নয়, গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমির ভবিষ্যৎচলনবিল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জীবনযাত্রার সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বর্ষায় বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে যায়; শুষ্ক মৌসুমে অনেক স্থান কৃষিজমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই মৌসুমি পরিবর্তনই চলনবিলের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও নথিতে চলনবিলের আয়তন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ১৯১৯ সালে প্রকাশিত ইম্পেরিয়াল গেজেটিয়ার অব ইন্ডিয়া গ্রন্থে এর আয়তন ৫৫০ বর্গমাইল বা প্রায় ১ হাজার ৪২৪ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ করা হয়েছিল। ১৯৪০ সালে প্রকাশিত ‘বাংলার ভ্রমণ’ গ্রন্থে আয়তন বলা হয় ৪৪১ বর্গমাইল বা প্রায় ১ হাজার ১৪২ বর্গকিলোমিটার। পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনেও আয়তন কমে আসার কথা উঠে এসেছে। তবে বিভিন্ন সময়ের পরিমাপপদ্ধতি এক না হওয়ায় এসব সংখ্যা সরাসরি তুলনা করে আয়তন হ্রাসের নির্দিষ্ট হার নির্ধারণ করা যায় না। এ জন্য প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত জরিপ।আয়তনের হিসাব নিয়ে মতভেদ থাকলেও জলাভূমির ওপর চাপ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কোথাও পলি জমে নদী-খালের গভীরতা কমেছে, কোথাও দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে পানিপ্রবাহ। কচুরিপানার বিস্তার এবং প্লাস্টিক, পলিথিনসহ নানা বর্জ্য পানিদূষণ বাড়াচ্ছে। কৃষিজমি সম্প্রসারণ ও অপরিকল্পিত সড়ক-অবকাঠামোও জলপ্রবাহে প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।জলাভূমি সংকুচিত হওয়ার অর্থ শুধু পানির বিস্তার কমে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মাছের বিচরণক্ষেত্র ও প্রজনন, জলজ উদ্ভিদ, পাখি এবং মানুষের জীবিকা। পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট বাড়ে। একই সঙ্গে মাছের স্বাভাবিক চলাচল ও বংশবৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে। তাই চলনবিলকে শুধু মৌসুমি জলরাশি হিসেবে দেখলে চলবে না। এর নদী, খাল, জলাশয় ও সংযোগপথকে একই প্রাকৃতিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।মাছ কমলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো অর্থনীতিচলনবিলের সংকটের বড় দিক হলো মৎস্যসম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও কোথাও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে মা মাছ ও পোনা আহরণের অভিযোগও রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা জলজ প্রাণীর আবাস সংকুচিত করতে পারে। নদী-খালের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, পানির গভীরতা কমে যাওয়া এবং দূষণও মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণে বাধা সৃষ্টি করে।মাছের উৎপাদন কমে গেলে ক্ষতি শুধু জেলেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। মাছ ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক, শুঁটকি উৎপাদক এবং মৌসুমি শ্রমিকেরাও এর প্রভাবের মুখে পড়েন। প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল বহু মানুষের আয় কমে গেলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।এ কারণে মাছ রক্ষায় শুধু অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়। প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ, নদী-খালের পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং মৎস্যসম্পদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাছ আহরণে বিধিনিষেধের সময় জেলেদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করতে হবে। মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা না করে কেবল নিষেধাজ্ঞা দিলে তা দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর করা কঠিন হতে পারে।শামুক-ঝিনুক আহরণে জীবিকা ও পরিবেশের ভারসাম্যচলনবিলে শামুক-ঝিনুক আহরণ দরিদ্র মানুষের মৌসুমি আয়ের অন্যতম উৎস। সংগৃহীত শামুক-ঝিনুকের মাংস মাছের খাদ্য হিসেবে বিভিন্ন এলাকার ঘেরে সরবরাহ করা হয়। খোলস থেকে তৈরি হয় খাওয়ার চুন। এভাবে আহরণ, পরিবহন ও বেচাকেনাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতির একটি ক্ষুদ্র জীবিকাচক্র।স্থানীয়দের দাবি, তাড়াশের ২০ থেকে ২৫টি জলাভূমিতে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক নৌকায় শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। স্থান ও সময়ভেদে প্রতি বস্তা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়; পাইকারি পর্যায়ে দাম ওঠে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। স্থানীয় সংগ্রহকারীদের হিসাবে, এ কাজে একজন মানুষ দিনে কয়েক শ টাকা আয় করতে পারেন। ফলে অনেক দরিদ্র পরিবারের কাছে শামুক-ঝিনুক আহরণ শুধু মৌসুমি পেশা নয়, সংসার চালানোরও একটি অবলম্বন।কিন্তু এই জীবিকার আড়ালে রয়েছে পরিবেশগত উদ্বেগ। শামুক-ঝিনুক জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের অংশ। নির্বিচারে আহরণে এদের প্রাকৃতিক মজুত কমে গেলে জলজ প্রাণীর খাদ্যপ্রাপ্তি ও পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আহরণের প্রকৃত মাত্রা এবং জলজ পরিবেশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া সমস্যার ব্যাপ্তি নির্ধারণ করা কঠিন।তাই শামুক-ঝিনুক আহরণ পুরোপুরি বন্ধ করে দরিদ্র মানুষের জীবিকা অনিশ্চিত করা যেমন সমাধান নয়, তেমনি পরিবেশগত প্রভাব উপেক্ষা করে নির্বিচারে আহরণের সুযোগ দেওয়াও যুক্তিসংগত নয়। প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক জরিপের ভিত্তিতে আহরণের সহনীয় মাত্রা নির্ধারণ, নিয়মিত নজরদারি এবং জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন। পাশাপাশি এ পেশার ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রকৃতি রক্ষা ও মানুষের জীবিকা—দুটিকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ না বানিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়াই হতে পারে টেকসই সমাধান।শুঁটকি শিল্পে উৎপাদন কমছে, চাপে হাজারো মানুষের জীবিকাচলনবিলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে শুঁটকি উৎপাদন ও বাণিজ্য। বিলের মাছ শুকিয়ে সংরক্ষণ ও বাজারজাত করার এ শিল্পে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু কাঁচা মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শিল্পটি এখন সংকটে।মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উল্লাপাড়া ও তাড়াশের ৬০টি শুঁটকি বাজারে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ৩০২ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১৮৫ দশমিক ১৭ মেট্রিক টনে। এক বছরে উৎপাদন কমেছে ১১৬ দশমিক ৮৩ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ কম।তাড়াশের মহিষলুটিতে একসময় প্রায় ২৫টি শুঁটকি চাতাল চালু ছিল। এখন সেগুলোর প্রায় অর্ধেক বন্ধ হয়ে গেছে; সচল রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এ শিল্পে প্রায় ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই হাজারের বেশি পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ মৌসুমি আয়ের ওপর নির্ভরশীল। একজন শ্রমিকের দৈনিক আয় প্রায় ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা।চলনবিলের শুঁটকি দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এর বাজার রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন ও দুবাইয়ের বাজারেও এ পণ্য যায়।মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর অঞ্চলে ২৭৫টি শুঁটকি চাতাল রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৫০ মেট্রিক টন এবং সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এ পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কাঁচা মাছ প্রয়োজন।উৎপাদন কমে যাওয়ার এই চিত্র দেখিয়ে দেয়, প্রাকৃতিক সম্পদের সংকট কীভাবে একটি শিল্পকে দুর্বল করে দিতে পারে। কাঁচা মাছের জোগান কমলে চাতাল বন্ধ হয়, শ্রমিক কাজ হারান, ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন এবং পরিবারগুলোর আয় কমে যায়। ফলে শুঁটকি শিল্পকে বাঁচাতে শুধু উৎপাদনস্থলের উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; যে জলাভূমি থেকে মাছ আসে, সেটিকেও রক্ষা করতে হবে।শুঁটকি শিল্পের আধুনিকায়ন, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মাছ শুকানোর ব্যবস্থা, সংরক্ষণাগার, বাজারজাতকরণে সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া প্রয়োজন। তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক উৎস রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে শিল্পটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব হবে না।পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে প্রকৃতি রক্ষা করেবর্ষায় চলনবিলের বিস্তীর্ণ জলরাশি, নৌভ্রমণ ও গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। পরিকল্পিত প্রচার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা গেলে চলনবিলকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।সরকারি উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। নিরাপদ নৌভ্রমণ, পরিচ্ছন্ন ঘাট, বিশ্রামাগার, স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পণ্য বিক্রির বাজার গড়ে উঠলে নৌকার মাঝি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান বাড়তে পারে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আয়ও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।তবে পর্যটনের নামে জলাভূমি ভরাট, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ কিংবা বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণের সুযোগ দেওয়া যাবে না। পর্যটনকেন্দ্র গড়তে হবে জলপ্রবাহ, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে। নৌযানের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটকদের চলাচল নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি ধ্বংস করে পর্যটন গড়ার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সেই পর্যটনের আকর্ষণকেই নষ্ট করবে।চলনবিল রক্ষায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজনচলনবিলের সংকট বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। জলাভূমি ভরাট ও পানিপ্রবাহে বাধা মাছের আবাস ও প্রজননকে প্রভাবিত করে। মাছের উৎপাদন কমলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুঁটকি শিল্প ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা। অন্যদিকে, শামুক-ঝিনুকের নির্বিচার আহরণ জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এসব সমস্যা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সমাধানও হতে হবে সমন্বিত।বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সিরাজগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক দীপক কুমার করের মতে, চলনবিলের মাছের মজুত, উৎপাদন, শুঁটকি শিল্প ও কর্মসংস্থানের প্রকৃত অবস্থা জানতে সমন্বিত জরিপ প্রয়োজন। মা মাছ ও পোনা রক্ষা, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ, নদী-খালের পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং দখল উচ্ছেদে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি শুঁটকি শিল্পের উন্নয়ন, সহজ শর্তে ঋণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও জরুরি।চলনবিল রক্ষায় প্রথমেই প্রয়োজন জলাভূমির সীমানা ও বর্তমান অবস্থা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য জরিপ। এরপর দখল ও দূষণ বন্ধ, নদী-খাল পুনরুদ্ধার, মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না; নিয়মিত তদারকি ও ফলাফল মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।একই সঙ্গে জলজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি পরিকল্পনায় রাখতে হবে। জেলে, শামুক-ঝিনুক সংগ্রহকারী ও শুঁটকি শ্রমিকদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি না করে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করা কঠিন। স্থানীয় মানুষকে সমস্যার অংশ হিসেবে নয়, সমাধানের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে হবে।চলনবিলকে ঘিরে কৃষি, মৎস্য, শুঁটকি শিল্প ও পর্যটনের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে হলে আগে এর প্রাকৃতিক ভিত্তি রক্ষা করতে হবে। উন্নয়ন মানে জলাভূমি ভরাট কিংবা নির্বিচারে সম্পদ আহরণ নয়; উন্নয়ন হলো প্রকৃতিকে টিকিয়ে রেখে মানুষের জীবনমান উন্নত করা।চলনবিলের সংকট তাই এখনই গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। দখল-দূষণ বন্ধ, নদী-খালের প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, মা মাছ ও পোনা রক্ষা, শামুক-ঝিনুক আহরণ নিয়ন্ত্রণ এবং শুঁটকি শিল্পের আধুনিকায়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে। চলনবিল বাঁচানো মানে শুধু একটি জলাভূমি রক্ষা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রকৃতি, খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং হাজারো মানুষের ভবিষ্যৎ।[লেখক: সদস্য, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)]

Sangbad • 11 Days, Oct 23, 2026 11:03 AM
0
• 0 min read
Sports

বার্সেলোনায় রাজত্ব ও বাবার এক মন্ত্রেই বদলে যাওয়া মেসি

স্পেনের ওভিয়েদো শহরের ঐতিহাসিক ‘হোটেল দে লা রিকনকুইস্তা’র সামনে তখন হাজারো ফুটবলপ্রেমীর ভিড়। স্প্যানিশ রাজপরিবারের হাত থেকে ক্রীড়া জগতের অন্যতম সম্মানজনক

DeshRupantor • 11 Days, Oct 23, 2026 11:02 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

কুমিল্লার অপ্রতীম হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফর রহমান।পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের পুরো পরিকল্পনায় সিয়াম নামের আরেকজন জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে তীব্র বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।পুলিশ জানায়, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে প্রথমে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহত অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর আসামিরা মোবাইল ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।সন্তান হারানো বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘একমাত্র ছেলেকে ঘিরেই আমাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা নিমিষেই কেড়ে নিয়েছে। আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে এই খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি বা ফাঁসি চাই, যাতে বয়সের ব্যবধানে কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে তারা পার পেয়ে যেতে না পারে।’

Sangbad • 11 Days, Oct 23, 2026 11:02 AM
0
• 0 min read
Bangla

ফুলবাড়ীতে জমি জালিয়াতির অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জমি জালিয়াতির অভিযোগে খলিলুর রহমান নামে এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে হয়রানি বন্ধ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।\r\n\r\nশুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফুলবাড়ী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক

AmarSangbad • 11 Days, Oct 23, 2026 11:01 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

নেত্রকোনার প্রকল্পে যুক্ত হলো শেরপুরও, ব্যয় বাড়ছে ১২০০ কোটি টাকা

বাস্তবায়নাধীন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ৮২.০৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মূল অনুমোদিত ১,৪২৮ কোটি টাকার সঙ্গে আরো ১,১৭২ কোটি টাকা যোগ করে প্রকল্পের মোট ব্যয় ২,৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নেত্রকোনার সঙ্গে শ

AmarDesh • 11 Days, Oct 23, 2026 11:00 AM
0
• 0 min read
Bangla

সহজেই তৈরি করুন আনারসের চাটনি

আনারস দিয়েও দারুণ চাটনি তৈরি করা যায়। যাঁরা প্রথমবারের মতো তৈরি করার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।

Ajkerpatrika • 11 Days, Oct 23, 2026 11:00 AM
0
• 0 min read
Bangla

গাজা যুদ্ধ থেকে ফিরে এক ঘণ্টায় ২ ইসরাইলি সেনার আত্মহত্যা

গাজা যুদ্ধ থেকে ফেরার পর মাত্রেএক ঘণ্টার ব্যবধানে আত্মহত্যা করেছেন দুই ইসরাইলি সেনা। তাদের একজন তেলআবিবের উত্তরে নেতানিয়া শহরে এবং অন্যজন অধিকৃত পশ্বিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলে মারা যান। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

AmarDesh • 11 Days, Oct 23, 2026 10:59 AM
0
• 0 min read
World

নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কায় ফ্রান্সজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

গত সপ্তাহে বিক্ষোভের আড়ালে কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহতম নগর সহিংসতার ঘটনার পর চলতি সপ্তাহান্তে নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করবে সরকার। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

NayaDiganta • 11 Days, Oct 23, 2026 10:58 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

দুর্যোগসহনশীল কৃষিতে চাই বিজ্ঞানভিত্তিক ফসল পরিকল্পনা

শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধি, স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন জাতের সম্প্রসারণ এবং অঞ্চলভিত্তিক ফসল বিন্যাস পুনর্গঠনের মাধ্যমে কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও দুর্যোগসহনশীল করতে হবে। বাংলাদেশের কৃষিতে এখন শুধু বেশি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ যথেষ্ট নয়। কখন, কোথায়, কোন ফসল এবং কোন জাত চাষ করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত করা যাবে, সেই সিদ্ধান্তই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা, আকস্মিক বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ কৃষির প্রচলিত উৎপাদন ক্যালেন্ডারকে ক্রমেই অনিশ্চিত করে তুলছে। কখনো অনিয়মিত বৃষ্টিতে বীজতলা তৈরি ও ধান রোপণ ব্যাহত হচ্ছে, কখনো আগাম বন্যায় পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। আবার অতিবৃষ্টির কারণে একটি ফসল কাটার পর সময়মতো পরবর্তী ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় উৎপাদন বাড়ানোর প্রচলিত ধারণার পাশাপাশি সময়ের সঠিক ব্যবহার, ফসলের জীবনকাল হ্রাস এবং দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।বাংলাদেশের সীমিত আবাদযোগ্য জমিতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণে শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। কিন্তু বছরে জমিতে কতটি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, শুধু সেই হিসাব দিয়ে কৃষির সাফল্য বিচার করা যায় না। ফসলের সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে মাটির উর্বরতা কমে গেলে, সেচের পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে কিংবা একটি ফসলের সঙ্গে অন্য ফসলের সময়গত সংঘাত তৈরি হলে সেই নিবিড়তা দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে আনবে না। তাই প্রয়োজন পরিকল্পিত শস্যনিবিড়তা, যেখানে জমির উৎপাদনক্ষমতা, মাটির স্বাস্থ্য, পানির প্রাপ্যতা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারের চাহিদা এবং দুর্যোগের সম্ভাব্য সময় একসঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ফসল ও জাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো অঞ্চলে দীর্ঘ জীবনকালসম্পন্ন ফসলের পরিবর্তে উপযোগী স্বল্পমেয়াদি জাত আবাদ করা গেলে ফসল সংগ্রহের সময় এগিয়ে আনা সম্ভব। এতে একদিকে আগাম বন্যা, খরা কিংবা মৌসুমি বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকির সঙ্গে ফসলের সংবেদনশীল পর্যায়ের সংঘাত কমানো যায়, অন্যদিকে একই জমিতে পরবর্তী ফসল আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যায়। তবে স্বল্প জীবনকাল মানেই সব পরিস্থিতিতে বেশি ফলন নয়। জাতের ফলনক্ষমতা, রোগবালাই প্রতিরোধ, স্থানীয় পরিবেশে অভিযোজন এবং বাজারমূল্য যাচাই করেই জাত নির্বাচন করতে হবে।হাওরাঞ্চলের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সেখানে বোরো ধান কাটার আগেই আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অঞ্চলভেদে উপযোগী স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ও আগাম পরিপক্ব ধানের জাত নির্বাচন, সময়মতো বপন বা রোপণ এবং দ্রুত ধান কাটার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বন্যাপ্রবণ এলাকায় পানিতে ডুবে থাকার সহনশীলতাসম্পন্ন জাত এবং খরাপ্রবণ এলাকায় খরাসহিষ্ণু জাতকে উৎপাদন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশের কৃষি গবেষণায় স্বল্পমেয়াদি ও প্রতিকূলতা-সহনশীল জাতের ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। যেমন, উপযুক্ত বন্যাপ্রবণ এলাকায় ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২ ও বিনা ধান ১১-এর মতো জাত এবং খরাপ্রবণ এলাকায় সংশ্লিষ্ট পরিবেশের উপযোগী খরাসহিষ্ণু জাত বিবেচনা করা যায়। তবে কোনো জাতের সুপারিশের ক্ষেত্রে স্থানীয় মাটি, পানি, মৌসুম ও কৃষি গবেষণার সর্বশেষ নির্দেশনা বিবেচনায় নিতে হবে।শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধির আরেকটি কার্যকর পথ হলো ফসলের জীবনকাল ও জমি খালি থাকার সময়ের মধ্যে সমন্বয় করা। ধান কাটার পর দীর্ঘ সময় জমি অনাবাদি থাকলে সেখানে উপযোগী স্বল্পমেয়াদি ডাল, তেলবীজ বা সবজি আবাদ করা যেতে পারে। ধানভিত্তিক ফসল বিন্যাসে সরিষা, মুগডাল, অন্যান্য ডাল ও উপযোগী সবজি অন্তর্ভুক্ত করা গেলে খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি পুষ্টি, কৃষকের আয় এবং মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষত ডালজাতীয় ফসল মাটিতে জৈবিকভাবে নাইট্রোজেন সংযোজনে ভূমিকা রাখে। তবে এ ক্ষেত্রে নাইট্রোজেন সংযোজনের পরিমাণ নির্ভর করে ফসলের ধরন, অণুজীব, মাটির বৈশিষ্ট্য ও ব্যবস্থাপনার ওপর। ফলে একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষের পরিবর্তে পরিকল্পিত ফসল বৈচিত্র‍্য কৃষির ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।তবে সব অঞ্চলের জন্য একই ফসল বিন্যাস কার্যকর হবে না। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ জমি, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এবং মধ্যাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ নিম্নভূমির সমস্যা এক নয়। কোথাও পানি দ্রুত নেমে যায়, কোথাও দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা থাকে, আবার কোথাও সেচের পানির সংকটই প্রধান বাধা। তাই দেশের কৃষিকে অভিন্ন ক্যালেন্ডারে পরিচালনা না করে কৃষি পরিবেশ অঞ্চলভিত্তিক ফসল পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। প্রতিটি এলাকার জন্য প্রধান ফসল, বিকল্প ফসল, উপযুক্ত জাত, বপন ও রোপণের সময়, সম্ভাব্য সংগ্রহকাল এবং দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কৃষি আবহাওয়ার তথ্য, স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ ফলাফলের সমন্বয়ে এ পরিকল্পনা নিয়মিত হালনাগাদ করা গেলে কৃষক আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন।এ জন্য শুধু জাত নির্বাচন নয়, পুরো উৎপাদনব্যবস্থাকে সময়-সংবেদনশীল করে তুলতে হবে। সময়মতো বীজ সরবরাহ, উন্নতমানের বীজের প্রাপ্যতা, সেচ ও পানি নিষ্কাশন, কৃষিযন্ত্রের সহজলভ্যতা এবং ফসল কাটার পর দ্রুত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষত দুর্যোগের আশঙ্কাপূর্ণ এলাকায় অল্প সময়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য কম্বাইন হারভেস্টারসহ উপযোগী কৃষিযন্ত্রের প্রাপ্যতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশন, খরাপ্রবণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কেবল স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না; সেই জাতের বীজ সময়মতো কৃষকের হাতে পৌঁছানো এবং নির্ধারিত সময়ে ফসল সংগ্রহের সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে।এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় ঝুঁকি মোকাবিলায় উপযোগী, স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ও উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও মূল্যায়নে গুরুত্ব দিতে পারে। বীজ উৎপাদন ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য চাহিদা অনুযায়ী আগাম বীজ প্রস্তুত ও সরবরাহের পরিকল্পনা করতে পারে। অন্যদিকে সম্প্রসারণকর্মীরা কৃষককে সঠিক জাত নির্বাচন, ফসলের সময় নির্ধারণ এবং আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণে সহায়তা করতে পারেন। গবেষণাগারের প্রযুক্তি, মাঠের অভিজ্ঞতা এবং কৃষকের বাস্তব চাহিদার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে পারলেই পরিকল্পনার সুফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছাবে।জাত উন্নয়নেও সময়ের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতির পাশাপাশি যেখানে বৈজ্ঞানিকভাবে উপযোগী, সেখানে দ্রুত প্রজন্ম উন্নয়ন, জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্তকারী চিহ্নের সহায়তায় নির্বাচন এবং আধুনিক জিনগত বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জাত উন্নয়নের গবেষণা জোরদার করা যেতে পারে। তবে দ্রুত জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি একাধিক স্থানে পরীক্ষা, ফলন যাচাই, রোগবালাই প্রতিরোধ এবং কৃষকের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। কারণ, দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর জাত বলতে শুধু দ্রুত পরিপক্ব জাতকে বোঝায় না; বরং যে জাত নির্দিষ্ট পরিবেশে নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে, সেটিই প্রকৃত অর্থে কৃষকের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম।এই পরিকল্পনার সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্য ও উৎপাদন ব্যয়ের বিষয়টিও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। শস্যনিবিড়তা বাড়ানোর নামে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ, নির্বিচারে কীটনাশক ব্যবহার কিংবা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘ মেয়াদে কৃষিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তাই মাটি পরীক্ষা করে সুষম সার প্রয়োগ, ফসলের অবশিষ্টাংশের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা এবং পানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডালজাতীয় ফসলের অন্তর্ভুক্তি, জৈব পদার্থের সংযোজন ও প্রয়োজনভিত্তিক সেচের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে এখন প্রয়োজন একটি বাস্তবায়নযোগ্য জাতীয় দুর্যোগসহনশীল শস্যনিবিড়তা কর্মপরিকল্পনা। এর আওতায় কৃষি পরিবেশ অঞ্চলভিত্তিক ফসল ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ও প্রতিকূলতা-সহনশীল জাতের তালিকা হালনাগাদ, বীজের চাহিদা নিরূপণ, কৃষিযন্ত্রের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং কৃষি আবহাওয়ার তথ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। প্রথম পর্যায়ে হাওর, খরাপ্রবণ অঞ্চল, উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকা ও বন্যাপ্রবণ নিম্নভূমিতে পরীক্ষামূলকভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ফলন, উৎপাদন ব্যয়, কৃষকের নিট আয়, পানির ব্যবহার এবং দুর্যোগজনিত ক্ষতির পরিবর্তন মূল্যায়ন করা উচিত। সফল মডেলগুলো স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী অন্য এলাকায় সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।সবশেষে মনে রাখতে হবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়; কিন্তু বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এর ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কৃষকের হাতে সঠিক জাত, সঠিক সময়ে বীজ, নির্ভরযোগ্য আবহাওয়ার তথ্য এবং উপযুক্ত উৎপাদন কৌশল পৌঁছে দেওয়া গেলে একই জমিতে উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে, অনাবাদি সময় কমবে এবং ফসলহানির ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি হবে। শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধির প্রকৃত সাফল্য তাই শুধু বছরে অধিকসংখ্যক ফসল উৎপাদনে নয়, বরং সীমিত জমি ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে নিরাপদ, লাভজনক ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার মধ্যে নিহিত। বাংলাদেশের কৃষিকে এখন উৎপাদননির্ভরতা থেকে পরিকল্পনানির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিতে হবে।দুর্যোগের পর ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় না থেকে দুর্যোগের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে ফসল নির্বাচন, জীবনকাল নির্ধারণ ও উৎপাদন ক্যালেন্ডার সাজানোই হবে সময়োপযোগী পদক্ষেপ। প্রকৃতির অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে নয়, বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হোক আগামী দিনের কৃষির মূল দর্শন।[লেখক: ব্যবস্থাপক (উদ্যান), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন]

Sangbad • 11 Days, Oct 23, 2026 10:58 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

কালিয়াকৈরে অটোরিকশাচালকদের মহাসড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর–বোর্ডঘর এলাকায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশাচালক ও শ্রমিকেরা।\r\n\r\nশুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে কালিয়াকৈর

AmarSangbad • 11 Days, Oct 23, 2026 10:57 AM
0
• 0 min read
Bangla

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র সচল করে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করুন

চিকিৎসকসংকট, অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিজেই যেন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রটির চারপাশে ঝোপঝাড়, ভবনের ভেতরে ময়লা-আবর্জনা ও পোকামাকড়ের বাসা। রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসক না পাওয়া এবং ওষুধ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সপ্তাহে এক-দুই দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য কেন্দ্রটি খোলা থাকে। ওষুধ নিতে গিয়েও অনেককে ফিরে আসতে হয়।প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য এসব কেন্দ্র অনেক সময় চিকিৎসার প্রথম ভরসা।একজন অসুস্থ মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। রাষ্ট্রের টাকায় নির্মিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।সমস্যাটি শুধু বেলকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নয়। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই শূন্য পদ পূরণে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ভবন ও চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।বেলকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত সচল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র অবহেলায় পড়ে থাকবে, আর সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য দুর্ভোগ পোহাবে সেটা হতে পারে না।

Sangbad • 11 Days, Oct 23, 2026 10:57 AM
0
• 0 min read
Bangla

স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকে ম্যানেজার নিয়োগ, আবেদন ৫ নভেম্বর পর্যন্ত

ব্যাংকে চাকরি করতে আগ্রহীদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির কার্ডস বিভাগে ‘সেলস অ্যান্ড রিকভারি ম্যানেজার’

ShomoyerAlo • 11 Days, Oct 23, 2026 10:56 AM
0
• 0 min read
Bangladesh

নৈশপ্রহরী থাকার পরও মির্জাপুরে ঘড়ির দোকানে চুরি, ২০ লাখ টাকা ক্ষতির অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের মসজিদ মার্কেটসংলগ্ন প্রধান সড়কে অবস্থিত ‘শাহাদাত ঘড়ি ঘর’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দোকানের শাটারের ওপর দিয়ে কেটে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ঘড়ি ও অন্যান্য মালামাল চুরি করে দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে বলে দাবি দোকানমালিকের।

Ajkerpatrika • 11 Days, Oct 23, 2026 10:56 AM
0
• 0 min read
Business

আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

অপ্রতিম হত্যাকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ও ৭ম শ্রেণির স্কুল ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার চার আসামির বিরুদ্ধে এ অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও পুলিশের মিডিয়া সেল শুক্রবার গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: লুৎফর রহমান বলেন, গত ২০ অক্টোবর দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড। অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিয

ManabZamin • 11 Days, Oct 23, 2026 10:56 AM
0
• 0 min read
Bangla

রম্যগদ্য: “আঁই কি কইচ্চি যে...?”

আঁই কি কইচ্চি যে, অর্থাৎ সাধূ ভাষায় বলিতে গেলে বলিতে হয় আমি কী করিয়াছি যে...?হ, আন্নে কী করচেন হেইডা আন্নে বুঝেন ন’? হ’ বুইড়া খুকার পোলা, কচি খুকা, আঁই কি কইচ্চি যে? পুরা জাতির ইজ্জত মারি অহন বলচেন, আঁই কি কইচ্চি যে, লজ্জা শরম নাই মিয়া...ছুট্টু বেলায়, লজ্জা-শরম, হায়া- বেহায়া, সকলের মুন্ডু কেটে তা, বঙ্গপোসাগরে মা দূর্গার সাথে বিসর্জন দিয়েছি। তাই খামাখা লজ্জা শরম নাই মিয়া...কথাটি বলিয়া অযথা সময় নষ্ট করিয়া কি লাভ! এখন বর্তমানের কথা চিন্তা করেন। জাতির বারটা যা বাজার, তাতো আপনারা ফায়ার ব্রিগেডের ঘন্টার ন্যায় ঢং ঢং করিয়া বিগত প্রায় চুয়ান্ন বছরে বাজাইয়াছেন। এখন জাতি কি করবে সেই চিন্তা করবেন নাকি আজীবন, সরি, আমরণ ড্রইং রুমে, হা-হুতাশ করেই সময় কাটাবেন?হেঁ হেঁ যেই যায় লংকায় সেই হয় রাবণ। আমার দ্যেশের সুনার পোলারা যখনই দায়িত্ব পাইছে তখনই মাইনে লগে লগে, মাল কামানোর জন্য এ্যতোই ব্যাস্ত যে, নিজের আর পরিবারের কথা ভাবি, ফুলি ফাঁপি, চাকরের চারশ’ কোটি টাকা, জাতির কপালে তপ্তবালির টিকা পরাই দিছেন! আবার আপনারাই স্ত্রীর ছুটো ভাই, আপনেরা কন, “আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে / আসেনি কেহ অবনী পরে / সকলে আমরা সকলের তরে / প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।” এইনি আপনেগো সকলে আমরা সকলের তরে/ প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।” বাঙালী হোই বাঙ্গালিরে হিডি মারি হ্যালার! মায়ে মারে পোলারে, পোলায় মারে বাপেরে, কব্বর থুন লাশ তুলি পুড়ি হ্যেলার, এ্যান্নে আঁই হারিন’ পরীক্ষায় মাল্লেকাই ফেইল করচে, আবার হুনি শ্যাপারে হিডি মারি হ্যেলার, অখন বলেন আমি কি করবো যে?শোন এতো আর আজকের কথা নয়, এ তো সেই পনেরশ’ শতাব্দীর বৃটিশ আমলের কথা, “এ-দেশ আমার / এ-দেশ তোমার / করলো কারা রচনা / ভায়ে ভায়ে বিবাদ / কেনগেল না...” ভায়ে ভায়ে বিবাদ সেই বৃটিশ আমলের অভিশাপ আমরা আজও বয়ে ব্যেড়াচ্ছি!আরে মিয়া ভাই আপনে বৃটিশ আমলের পাপ লোই ঘুরেন আঁর কিচুই বলার নাই। দুনিয়ার সকল দেশে পাবলিকে মদ পান করের, এমোন কি আন্নের ঈলন মাস্ক, যেই ব্যাটা উড়ন্ত গাড়ি বানই দুনিয়া কাঁপার, হেই, ইলন মাস্কও মদ খায়। কিন্তু আন্নের দেশে মদ খাওন হারাম, তাই আমি গেলাম একটু মদখোর হারামী গুলারে শায়েস্তা করতে। আর আপনেরা মদখোর হারামী গুলারে শায়েস্তা না করি আমারেই শায়েস্তা করলেন!! আমার বাপে আপনের দলের লাই মুরগীর রক্তমাখি রক্তাত পুষ্টার ছাড়ছে, আর সেই আমারেই বিলাতি মেম সাহেবের কথা হুনি, পাবলিকের সামনে বেইজ্জতি করলেন?আরে সোনা, এ’নিয়ে এ্যাতো মন খারাপ করিস না। মনে রাখবি এই যে চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, জামিন বাণিজ্য, মেডিকেলের চল্লিশ পার্সেন্ট কমিশন, আজ মন্ত্রী, কাল প্রতিমন্ত্রী, পরশু আম পাবলিক, এই সকলের মাঝেই তোমাদের মঙ্গল নিহিত রহিয়াছে।হ, মঙ্গল নিহিত রহিয়াছে, মুখ খারাপ করায়েন না মিয়া, সারা দেশের পাবলিকে অহন আমারে লোই টিটকারি মারের। আমারে কয়, চল্লিশ দিন তালামারি পাবলিকের ভাইগ্য মারছিলেন, অহন বিলাইতি মেমেরা, হেঁ হেঁ আপনের দক্ষিণ দুয়ারে তালামারি আপনের বাপ-দাদার, নানা দাদার না, বাপ-চাচার ভাইগ্য হিডি মারি হালার। এই দুঃখ আমি কারে কমু কন?আচ্ছা ভালো কথা তোরা সব, মানে যারা বিলাতি মেমে সাহেবের, চাপে পড়ে ত্রাহি মধুসূদন, ত্রাহি মধুসূদন, ত্রাহি কৃষ্ণ, ত্রাহি কৃষ্ণ, করছিস তারা আবার সবাই মিলে নতুন কোনো পার্টি খোলার কথা ভাছিস? নাকি অন্য কিছু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো নিজের আখের গোছাবার জন্য বিরোধী দলে যোগ দিবি?আরে না, আন্নে আঁরে ভুল বুইঝেন না। ব্যেবাগ বীর মুক্তিযোদ্ধারা অহন সিনিয়র সিটিজেন। যারা দুই বছর বয়েসে যুদ্ধে গেছিলো তাগো বয়সও পঞ্চাশ পার। এইসব বুইড়া, কিডনি ফেইল ডাইলাইিসিস রুগী দিয়া আর যাই হোক, পলিটিক্যাল পার্টি চইলত’ন। মিছিলে দশ কদম হাঁটলেই হ্যাতাগো জিবলা বাইর হই যায়। অহন লাগবো জেন-জি, নিউ জেনারেশন।বুঝলাম তোরা জেন-জী, নিউ জেনারেশন, কিন্তু যেই জন্য, তোদের ভাষায় ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটলো, বাস্তবে তার তো কোনো পরিবর্তন দেখছিনা!হুনেন, আমাগোরেরও একটা প্ল্যান আছে, এই সমাজ বদলাবার জইন্নে আঁরা বাছি বাছি পোলা লোই সুইসাইড স্কোয়াড বানাই ব্যেবাগ মদখোর হারামী গো, মারি-হিডি দ্যেশের তন খ্যেদামু, লগে লগে বিলাইতে মেমেরে আলকাতরা মাখি নিগরু বানাই লন্ডনে পাঠামু। তাহলে দেশের উন্নয়ন, তৌবা তৌবা, উন্নয়ন না, উন্নয়ন না, দেশের ভালো করার জন্য তোরাও নিজেরা নিজেরা, মানে বাঙালী হয়ে বাঙালীকে হিডি মারবি!!হ্যেইডাতো আমাগো মানে জেন-জী’র, দোষনা। আপনেই তো বলেচেন, “এ-দেশ আমার / এ-দেশ তোমার / করলো কারা রচনা / ভায়ে ভায়ে বিবাদ কেন / গেল না...” ভায়ে ভায়ে বিবাদ সেই বৃটিশ আমলের অভিশাপ আমরা আজও বয়ে ব্যেড়াচ্ছি!!তাহলে তোরা জেন-জী, নিউ জেনারেশন, তোদের হাতেও বাঙালী হোয়ে বাঙ্গালি মার খাবে, মা মারছে ছেলেকে, ছেলে মারছে বাবাকে, কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলা, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, জামিন বাণিজ্য, মেডিকেলের চল্লিশ পার্সেন্ট কমিশন, আজ মন্ত্রী, কাল প্রতিমন্ত্রী, পরশু আম পাবলিক, এই অবস্থার শেষ হবে না!জ্বী না, কেয়ামত থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এই সিসটেম চলবো। আর শুনেন, অহন ভায়ে ভায়ের, সাথে বিলাইতি মেম আর দেশী বেগমও যুক্ত হোইবো। ছিঃ ছিঃ ছিঃ লজ্জা লজ্জা, শরম শরম...[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

Sangbad • 11 Days, Oct 23, 2026 10:56 AM
0
• 0 min read
Wed ☀️ 31°
Thu ⛅ 30°
Fri 🌧️ 28°
Sat ⛅ 29°
Sun ☀️ 32°

Trending News

Daily Newspaper